ভারতের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কে 'টানাপড়েন আছে' বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। আজ বুধবার বিকালে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। খবর বিবিসি বাংলা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এদিন যেভাবে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়েছেন, সেটিকে 'খুব অপ্রত্যাশিত কিছু না' বলে মনে করেন উপদেষ্টা। বলেন, এটা (দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে তলব) খুব অপ্রত্যাশিত কিছু না। সাধারণত এটা ঘটে। একজনকে ডাকলে আরেকজনকে ডাকা হয়।

তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে বাস্তবতাকে মেনে নেয়াই ভালো। আসলে এ সরকারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত (সম্পর্কে) টানাপড়েন তো আছেই ভারতের সঙ্গে। তবে বিষয়টি মেনে নিয়ে বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে একটা ভালো সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা চাইলেই যে হবে, এমন কোনো কথা নেই। দুপক্ষ থেকেই সম্পর্ককে এগোনোর চেষ্টা করতে হবে।

'ভারতের উপদেশ অগ্রহণযোগ্য, নসিহতের দরকার নেই'

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতের মন্তব্য প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকার প্রথম দিন (ডে ওয়ান) থেকে স্পষ্টভাবে বলে আসছে, আমরা একটা অত্যন্ত উচ্চমানের, মানুষ যেন গিয়ে ভোট দিতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই। যে পরিবেশ গত ১৫ বছর ছিল না। এখন ভারত আমাদের এটা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছে, এটা আমি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য মনে করি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তারা জানে যে গত ১৫ বছর ধরে যে সরকার ছিল, যে সরকারের সঙ্গে তাদের অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল, তখন কিন্তু এই যে নির্বাচনগুলো প্রহসনমূলক হয়েছে, তখন তারা একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি।

তিনি আরো বলেন, এখন সামনে একটা ভালো নির্বাচনের দিকে আমরা যাচ্ছি, এ মুহূর্তে আমাদেরকে নসীহত করার তো কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা জানি আমরা কী করব। আমরা একটা ভালো নির্বাচন করব, যেটাতে মানুষ ভোট দিতে পারবে এবং যাদেরকে ভোট দিবে, তারাই নির্বাচিত হবে।

অন্যদেশের 'বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে' বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার হুমকি দিয়ে সম্প্রতি এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আমাদের ভূমিতে আশ্রয় দিব, এ সরকার অবশ্যই সেটা করবে না এবং আমি অনুমান করি, বাংলাদেশের কোনো সরকারই করবে না। এটা একজন অ্যাক্টিভিস্ট-রাজনীতিক বলতে পারেন, তবে সরকারের অবস্থান অবশ্যই সেটা নয়।