সাতক্ষীরায় দেড় মাসের ব্যবধানে মরিচ্চাপ নদীর উপর নির্মিত সাতটি সেতু ধসে পড়েছে। এসব সেতু সদর, দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলার অন্তত ৩০ গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিল। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিংড়ি ঘেরভিত্তিক মৎস্য চাষিরা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

সাত থেকে দশ বছর আগে নির্মিত এই পাকা (ঢালাই) সেতুগুলোর ধসের পেছনে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা দায় দেখছেন পরিকল্পনা ও অনুমোদনের ত্রুটিতে। তারা বলছেন, সিএস রেকর্ড অনুসরণ না করে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত না নিয়েই এসব সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নির্মিত এসব সেতুর প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ২০ থেকে ৩১ লাখ টাকার মধ্যে। ধসে পড়া সেতুগুলোর মধ্যে রয়েছে— সোনাতলা নজরুলের ঘেরের সামনে ৪০ ফুট সেতু (২০১৮), টিকের মাজেদ সরদারের বাড়ির সামনে ৪০ ফুট সেতু (২০১৭), খালের উপর ৩০ ফুট সেতু (২০১৭), ব্যাংদাহ আশ্রয়ন প্রকল্পের সামনে ৪০ ফুট সেতু (২০১৬), শিমুলবাড়িয়ার কালিদাসের বাড়ির সামনে ৪০ ফুট সেতু (২০১৫), রওশন খোড়ার বাড়ির সামনে ৩০ ফুট সেতু (২০১৫) এবং এল্লারচর বাজার সংলগ্ন ৪০ ফুট সেতু (২০১৪)।

এল্লারচর বাজার সংলগ্ন এলাকার চিংড়ি চাষি আবু বকর সিদ্দিকি ও হাফিজুর রহমান বলেন, ধসে পড়া সেতুর কারণে তাদের মাছ জেলা সদরে নিতে বিকল্প পথে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুই ই বেড়েছে। তাদের এলাকার প্রায় দুই হাজার চাষি একই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ধসের বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোয়েব আহমেদ জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০২০-২১ সালে নদী পুনঃখননের পর মরিচ্চাপ নদীর প্রস্থ বেড়ে যায়। ফলে সেতুগুলোর দুই প্রান্তের মাটি সরে গিয়ে সেতু ধসে পড়ে। এরই মধ্যে চারটি সেতু পুনর্নির্মাণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সালাউদ্দিন বলেন, সেতু নির্মাণের সময় সিএস রেকর্ড ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত বিবেচনায় না নেয়াতেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এসব বিষয় অবশ্যই মানা উচিত।