ভোমরা স্থলবন্দরে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মোট লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ১০ মাসে অন্তত ৩০ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে। মূলত বৈশ্বিক মহামারীর কারণেই এ মন্দাভাব। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দশ মাস জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৩৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর সে লক্ষ্য সামনে রেখে ১০ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৪৪ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৫৭ কোটি ৬৩ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৭৩ কোটি ৩০ লাখ, অক্টোবরে ৭১ কোটি ২৮ লাখ, নভেম্বরে ৭৪ কোটি ২৮ লাখ, ডিসেম্বরে ৫৫ কোটি ২৭ লাখ, জানুয়ারিতে ৫৯ কোটি ২০ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৬২ কোটি ৪১, মার্চে ৯৩ কোটি ৯৮ লাখ সবশেষ এপ্রিলে ৫৭ কোটি ৪৬ টাকা আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি পড়েছে ২৮৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। 

সূত্রটি আরো জানান, গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে রাজস্ব আয় হয়েছিলো ৭০১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। যা চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসের তুলনায় ৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে দেশের অন্য যে কোনো বন্দরের চেয়ে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর অনেক সম্ভাবনাময়। তিনি বলেন, ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী নামে খ্যাত কলকাতার দুরত্ব অন্য সব বন্দরের তুলনায় ভোমরা খুবই কম। কিন্তু পণ্য আমদানিতে নানা বৈষম্যের কারণে বন্দরে কাঙ্খিত রাজস্ব পাচ্ছেনা সরকার। ব্যবসায়ীদের সকল পন্য আমদানি করতে দেয়া হলে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবে তেমনি সরকারও প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে মূলত এ বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্য মন্দা যাওয়ায় রাজস্ব কমে গেছে। তাছাড়া রয়েছে বৈশিক মহামারী করোনা সংকট। যে কারণে গত ১০ মাসে এত বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি পড়েছে।