বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মোবাইল কোর্ট অক্টোবর মাসে সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়। একই সময়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ১১২৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করা হয় এবং রফতানিযোগ্য ৪টি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দেয়া হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় ঢাকা মহানগর এলাকায় নিরাপদ খাদ্য আইনে ১৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১৩ লাখ টাকা জরিমানা ও ১১টি মামলা দায়ের করা হয়।

প্রায় প্রতিষ্ঠানেই যেসব অসংগতি লক্ষ্য করা গেছে, তা হলো- খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অনিবন্ধিত অবস্থায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স না থাকা, পেস্ট কন্ট্রোল প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়া।

ঢাকা মহানগর ছাড়া সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় নিরাপদ খাদ্য আইনে ১৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।রান্নাঘরে তেলাপোকার বিচরণ, পোড়াতেল ব্যবহার করা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার করা, অনুমোদনহীন পণ্য ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদন করা প্রভৃতি অপরাধের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়।

সব মিলিয়ে গত অক্টোবর মাসে ৩৪টি অভিযানের মাধ্যমে মোট সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়।আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১২৭টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়। মনিটরিং কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।