ঐতিহাসিক মুজিবনগরের স্বাধীনতা সড়ক (মুজিবনগর-কলকাতা) আগামী ২৬ অথবা ২৭ মার্চ উদ্বোধন হবে বলে জানালেন এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। স্বাধীনতা সড়কটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী গতকাল সকালে মেহেরপুরে মুজিবনগরে নির্মিত ‘স্বাধীনতা সড়ক’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সড়কটি উদ্বোধন করবেন। দুই দেশের মধ্যে এ সড়ক স্থাপনের চুক্তি অনুযায়ী আমরা আমাদের অংশের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছি। ভারতের অংশের কাজ করবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান মন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন।
মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্টজন এবং দেশী-বিদেশী অসংখ্য সংবাদকর্মী ভারতের কলকাতা থেকে নদীয়া হয়ে এ সড়কে মেহেরপুরের মুজিবনগর আসেন। এখন মুজিবনগর হিসেবে পরিচিত বৈদ্যনাথতলায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়। শপথ নেন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে রাস্তাটির গুরুত্ব অপরিসীম। সড়কটি দুই দেশের মধ্যকার সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সড়কটি পরিদর্শন করে এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সড়কটির কাজ শেষ করা হয়েছে। এজন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডিসহ এ কাজে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা সড়কটির উদ্বোধন করবেন।
মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের দুঃসময়ে বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সাহায্য এবং সহযোগিতা করায় ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দুর্বার গতিতে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে এলজিআরডি মন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টার মুজিবনগর কমপ্লেক্সের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ খান।










