আলু উৎপাদনে জয়পুরহাট দেশের অন্যতম প্রধান জেলা হিসেবে বিবেচিত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার আলু প্রায় সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে জেলায় পর্যাপ্ত আলুর মজুদ থাকলেও খুচরা ও পাইকারি বাজারে আলুর দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। আলুর দামের ঊর্ধ্বগতির কোনো কারণ বলতে পারছেন না হিমাগার মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা। আড়তদার ও ব্যাপারীরাও বলছেন, আলুর সংকট নেই। পর্যাপ্ত আলুর মজুদ থাকলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা বেশি দামে বিক্রি করায় বাজারে আলুর দাম কমছে না।
এ জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ১৯টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেন। কিছুদিন আগেও জেলার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ২০-২৫ টাকার মধ্যে। বর্তমানে জাতভেদে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫০ টাকা। এতে সাধারণ ক্রেতারা হতাশ। এ অবস্থায় ভোক্তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং করে আলুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার আলু উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টন। এ জেলায় বীজ ও খাওয়ার আলুর চাহিদা রয়েছে ১৫০ টন। এর বিপরীতে হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টন। মজুদের মধ্যে ২০ শতাংশ আলু হিমাগার থেকে বাইরে সরবরাহ করা হয়েছে। উদ্বৃত্ত আলু জেলার চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও বিদেশে।
জয়পুরহাট নতুনহাট বাজারে বাজার করতে আসা সাজ্জাদ, শুভ, রাকিব ও আশা নামের কয়েকজন ক্রেতা বলেন, ‘সব জিনিসের দাম বেশি। আলুর দাম একটু কম ছিল, সেই আলুর দাম এখন ৪০-৫০ টাকা। এ অবস্থায় প্রধান সবজি আলু বাদ দিয়ে বাজার করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের বাজারে এমন অস্থিরতায় আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’
জয়পুরহাট শহরের সবচেয়ে বড় বাজার পৌরসভার সাহেব বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মত্তুর্জা ও রহিম বলেন, ‘আমরা বর্তমানে বাজারে তিন জাতের আলু ৩৫, ৪৫ ও ৫০ টাকায় কেজিপ্রতি বিক্রি করছি। আলু আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে এখন আলু কম বিক্রি হচ্ছে।’
জয়পুরহাটের বটতলী কোল্ডস্টোরের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, কালীচরণ, রফিকসহ অনেকে বলেন, ‘৬২ কেজির বস্তা হিসেবে আলুর প্রকারভেদে স্টিক ১ হাজার ৮০০ টাকা, ডায়মন্ড ১ হাজার ৯০০ ও পাগড়ী জাতের আলু ২ হাজার ৪০০ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি কেজি আলু ৩৬-৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বিক্রেতারা সেগুলো নিয়ে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।’
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। কোনো ব্যবসায়ী বা অবৈধ মজুদদার আলুর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কালাই এম ইশরাত কোল্ডস্টোরের ম্যানেজার আবু রায়হান বলেন, ‘আলুর কোনো সংকট নেই। আমাদের কোল্ডস্টোরেজ থেকে এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ আলু বাইরে সরবরাহ হয়েছে। অন্যান্য কোল্ডস্টোরেও একই অবস্থা। জেলার সব কোল্ডস্টোরে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলু মজুদ আছে। সংকট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আলুর বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। এ অবস্থায় আলুর দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। আলুর দাম বেশি হাওয়ায় কোল্ডস্টোরগুলোতে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে কম আসছেন। এজন্য আলু ধীরগতিতে বের হচ্ছে। বাজারে আলুর সংকটের কারণে অন্যান্য বছরের তুলানায় এবার কোল্ডস্টোর থেকে আলু দুই মাস আগে থেকে বের হওয়া শুরু হয়েছে।’
জয়পুরহাট জেলা বাজার ও কৃষি বিপণন কর্মকতা রতন কুমার রায় বলেন, ‘কোনো ব্যবসায়ী যদি অবৈধভাবে আলু মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










