স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে বিজয়ের মাস জুড়েই স্বাধীনতা সংগ্রামের বিভিন্ন প্রেক্ষিত সম্পর্কে নানা আয়োজন থাকছে বণিক বার্তায়। আজকের উপস্থাপনাটি হেনরি কিসিঞ্জারের ভূমিকা নিয়ে—

‘আমাদের সরকার গণতন্ত্রের ওপর দমন-পীড়নের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ। আমাদের সরকার বর্বরতার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ। আমাদের সরকার এমনকি নিজ নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানেও ব্যর্থ। যদিও আমাদের সরকার এখন পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারকে খুশি রাখতে প্রাণান্তকর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের (পাকিস্তানি সরকারের) প্রাপ্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রশমনেরও চেষ্টা চালাচ্ছে আমাদের সরকার। আমাদের সরকার যার প্রমাণ রাখছে, সেটিকে অনেকেই চিহ্নিত করবেন নৈতিক দেউলিয়াত্বের উদাহরণ হিসেবে।’ 

১৯৭১ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কনসাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের এ টেলিগ্রাম ওয়াশিংটনের কর্তাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারকে। কারণ এর আগে ২৮ মার্চ আর্চার ব্লাড আরেকটি টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন, যাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু সে টেলিগ্রামের জবাবে ‘মরণাপন্ন বাঙালির জন্য যাদের হূদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে’, তাদের (আর্চার ব্লাড ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের) কটাক্ষ করে উপহাসমূলক বক্তব্য রেখেছিলেন কিসিঞ্জার। আর্চার ব্লাডের ৬ এপ্রিলের টেলিগ্রামটি ছিল সে কটাক্ষেরই জবাব। কিছুদিনের মধ্যেই তাকে ঢাকা থেকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর আর কখনই কোনো কূটনৈতিক মিশনের দায়িত্ব দেয়া হয়নি তাকে।

আর্চার কে ব্লাডের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে হেনরি কিসিঞ্জারের কোপানল কতটা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বলছে, সে সময় মার্কিন প্রশাসনে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। এ ঘনিষ্ঠতার সুবাদে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হয়েও ওই সময় তিনি হয়ে ওঠেন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির প্রধানতম নীতিনির্ধারক। স্নায়ুযুদ্ধকালের চরম উত্তেজনার ওই মুহূর্তে মার্কিন ভূরাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তিনিই ছিলেন প্রধানতম ব্যক্তি।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ব্রাসেনোজ কলেজের মডার্ন হিস্ট্রি বিষয়ের সাবেক সুপারনিউমারি ফেলো এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের গবেষণা নিবন্ধ নিরীক্ষক জেফ্রি ওয়ার্নার এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই পুরোপুরি ব্রাত্য করে ফেলেছিলেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা কিসিঞ্জার।

১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন হেনরি কিসিঞ্জার। ওই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘দাঁতাত’ নীতির (কূটনীতিকে কাজে লাগিয়ে চরম শত্রুর সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন ও সেটিকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাজনক অবস্থান অর্জনের নীতি) প্রয়োগের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটান। এ নীতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কিছুটা প্রশমিত করে আনার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা পরবর্তী সময়ে সোভিয়েতবিরোধী চীনা-মার্কিন কৌশলগত ঐক্যে রূপ নেয়। 

এছাড়া কূটনীতিতে গোয়েন্দাবৃত্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি হয়ে পড়েছিল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ‘ফোরটি কমিটি’ নামে গোপন একটি উপকমিটির কুক্ষিগত, যার প্রধান ছিলেন কিসিঞ্জার। এ কমিটির সিদ্ধান্তে সিআইএকে কাজে লাগিয়ে ১৯৭৩ সালে চিলিতে সালভাদোর আলেন্দের সরকারকে উত্খাত করা হয়। এর জন্য ফোরটি কমিটি সিআইএকে ৮০ লাখ ডলারের একটি বরাদ্দ দিয়েছিল বলেও সে সময়কার গণমাধ্যমে উঠে আসে। এছাড়া কিসিঞ্জারের সময়ে আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঘটনা ঘটে, যার জন্যও সিআইএকে দায়ী করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিসিঞ্জারের পররাষ্ট্রনীতি ছিল বরাবরই শীতল ও ক্রূর প্রকৃতির। এ কারণে কোথাও গণহত্যা বা মানবিক বিপর্যয়ের অভিযোগ এলে তার প্রতিক্রিয়া হতো—‘এটি মানবিক বিষয়। এর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কোনো সম্পর্ক নেই’। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে দক্ষিণ এশিয়া নীতিতেও ঠিক এ নীতিরই প্রয়োগ করেছেন কিসিঞ্জার।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখে ‘পাকিস্তানের পূর্ব অংশের গোলযোগটি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে উড়িয়ে দিলেও বাঙালির স্বাধীনতার যুদ্ধটিকে কিসিঞ্জার দেখছিলেন শুধু স্নায়ুযুদ্ধের অংশ হিসেবে। এ কারণে পূর্ববঙ্গে গণহত্যার যাবতীয় প্রমাণ হাতে পাওয়া সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে গিয়েছিলেন তিনি। তার চোখে ওই সময় প্রধানতম সমস্যা ছিল উপমহাদেশে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বৃদ্ধি। ভারত-সোভিয়েত মিত্রতা তাকে বেশ উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল। এ কারণে স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা ভারতের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তোলার পর নয়াদিল্লিকে ‘সোভিয়েত পুতুল’ বলে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন তিনি। 

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি দি আটলান্টিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লেখেন, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হয়ে উঠতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি কিসিঞ্জারের কৌশলগত বিচারবুদ্ধিকে ধোঁয়াটে করে তুলেছিল। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সামরিক প্রতিযোগিতায় মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার পেতে ১৯৫০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর মিত্রতায় আবদ্ধ ছিল পাকিস্তান। ভারত অস্ত্রের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় এ মিত্রতা আরো গভীর হয়ে ওঠে। এছাড়া সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমিউনিজম বিরোধী’ জেহাদে পাকিস্তান ছিল এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। যদিও কোরিয়া ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ে ভারতীয় হুমকির অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সেনা পাঠাতে সম্মত হয়নি পাকিস্তান।  

কিসিঞ্জারের এ পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকে থাকার নীতির পেছনে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের মনোভাবও অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এ বিষয়ে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির পলিটিকস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ের অধ্যাপক এবং ‘দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড’ বইয়ের লেখক গ্যারি বাস পলিটিকো ম্যাগাজিনকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, কিসিঞ্জারের ১৯৭১ সালের ভূমিকা সম্পূর্ণ আচ্ছন্ন ছিল দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি ঔদাসীন্য, নিজস্ব আবেগজনিত অপমূল্যায়ন এবং নিক্সনের বর্ণবাদমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে ইন্ধন দেয়ার প্রয়াস দিয়ে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের গুরুত্ব পরে কিসিঞ্জার নিজেও স্বীকার করেছেন। ২০১৪ সালে প্রকাশিত বই ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডারে’ তিনি লিখেছেন, ওই সময়ে ভারতের গুরুত্ব এখনকার চেয়ে কোনো অংশে কম ছিল না। বিশেষ করে এর ভৌগোলিক, সম্পদের প্রাচুর্য ও কৌশলী নেতৃত্বের ঐতিহ্য থেকে। 

কিসিঞ্জারের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অনেকেই বলেছেন, তিনি পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকে থাকার নীতিটি বাস্তবায়ন করেছেন অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে। সে সময় অনেক কূটনীতিকই যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তান থেকে ‘দূরে সরে থাকার’ নীতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৫০ সালে আইজেনহাওয়ার প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন ফস্টার ডালেস ‘তোষামোদের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার বদলে অনির্ভরযোগ্য বন্ধুর সঙ্গই বেশি সুবিধাজনক’ মতামত দিয়ে পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

হুসেইন হাক্কানি জানাচ্ছেন, এছাড়া ১৯৫৪ সালে আইজেনহাওয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে প্রথমবার সফর করতে গিয়ে রিচার্ড নিক্সন সেখানকার রাজনৈতিক নেতাদের কমিউনিজমবিরোধী মনোভাবে মুগ্ধ হন। অন্যদিকে ভারতীয় নেতাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলাপের অনাগ্রহ তাকে ক্রুদ্ধ করে তোলে। এছাড়া মার্কিন নেতৃত্বে যেকোনো ‘আদর্শিক সংঘাতে’ লিপ্ত হওয়ার পাকিস্তানি আগ্রহও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে নিক্সন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকেও বলেছিলেন, পাকিস্তান হচ্ছে এমন একটি দেশ, যার জন্য আমি সবকিছু করতে আগ্রহী।

কিসিঞ্জার ও নিক্সনের ১৯৭১ সালের ভূমিকা ছিল এসব দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন, যার অসংখ্য নিদর্শন তত্কালীন গণমাধ্যমগুলোয় প্রকাশিত সংবাদে দেখতে পাওয়া যায়। বাংলার স্বাধীনতার দাবি দমন করতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা যখন মার্শাল লর আড়ালে গণহত্যা চালাচ্ছে, সে সময় বিষয়টির কথা জেনেও উপেক্ষা করে যান নিক্সন ও কিসিঞ্জার। উল্টো সে সময় কিসিঞ্জারের গোপন চীন সফরের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন নিক্সন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে কিসিঞ্জার বেশ কয়েকবার ভারত ও পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। এসব সফরেও পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকে থাকার নীতির স্পষ্ট প্রদর্শন করে যান কিসিঞ্জার। এ নীতিই সে সময় যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে পাকিস্তানি নৃশংসতার বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপনে বাধা দেয় বলে অভিমত পর্যবেক্ষকদের। 

তারা বলছেন, ওই সময় নিক্সন ও কিসিঞ্জারের প্রধান চাওয়া ছিল, ‘সোভিয়েত পুতুল’ ভারত যাতে ‘মার্কিন মিত্র পাকিস্তানকে’ টেক্কা দিতে না পারে। এজন্য বঙ্গোপসাগরে নৌবহরও পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে সে বহরের প্রতি নির্দেশ ছিল কোনো সংঘাতে জড়ানো যাবে না। প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নও বঙ্গোপসাগরে নৌবহর পাঠানোর হুমকি দিলে নিরস্ত হয় নিক্সন প্রশাসন। নিক্সন ও কিসিঞ্জারের পররাষ্ট্রনীতিই সে সময় পর্দার আড়ালের স্নায়ুযুদ্ধকে সামনে নিয়ে আসার আশঙ্কা তৈরি করে। যদিও শেষ পর্যন্ত সে আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। 

এভাবে যুদ্ধের পুরোটা সময় ধরে পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকানোর প্রয়াস চালিয়ে গিয়েছেন হেনরি কিসিঞ্জার ও রিচার্ড নিক্সন। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এ নিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছ থেকে কোনো প্রশংসা বা ধন্যবাদসূচক বাক্য তাদের কপালে জোটেনি। কারণ তাদের সব প্রয়াসকে বিফল করে দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে ৯০ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য। চূড়ান্ত বিজয়ে রূপ নেয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।