ঠাকুরগাঁওয়ের আবহাওয়া লিচু চাষের বেশ উপযোগী। এজন্য এ জেলায় প্রচুর লিচু বাগান গড়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে ২৫৮টি বাগানে লিচুর মুকুল এসেছে, যা থেকে ১ হাজার ৭০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
লিচুচাষীরা বলছেন, জেলায় বেশি চাষ হয় চায়না থ্রি, বেদানা, বোম্বে ও মাদ্রাজি জাতের লিচু। অন্য বছরে তুলনায় এবার লিচুর মুকুল বেশি এসেছে।
পৌরসভার বড়বাড়ী, মুন্সিরহাট ও সদর উপজেলার রহিমানপুর, আখানগর ও শুকানপুকুরীর লিচু বাগানগুলোয় গিয়ে দেখা যায়, বাগানে কর্মব্যস্ত মালিক ও শ্রমিকরা৷ মুকুল ধরে রাখতে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ স্প্রে করছেন। কেউ আবার মুকুল রক্ষায় মাচা তৈরি করছেন৷ প্রতিটি বাগানে একসঙ্গে কাজ করছেন শ্রমিকেরা।
দীর্ঘদিন থেকে বাগান পরিচর্যার কাজ করে আসছেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে মাঠে কাজ করতাম৷ পাঁচ বছর ধরে লিচু বাগানে কাজ করছি। অনেকে মিলে একসঙ্গে কাজ করে আনন্দ পাই। পাশাপাশি চুক্তিতে বেতন পাই। তা দিয়ে সংসার ভালোই চলে।’
সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের লিচু বাগান মালিক রেদোয়ান ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো থাকায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা এসে বাগান কিনে নেন। আমরাও ভালো দাম পাই।’
পাঁচ বছর ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি বাগান লিজ নিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা লিচু ব্যবসায়ী রাজীব পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘গত বছর ঠাকুরগাঁও থেকে লিচু নিয়ে যেতে সমস্যা হয়েছে। যানবাহনের ভাড়া বাড়ায় লাভও ভালো হয়নি। এ বছর ভালো মুকুল এসেছে। গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছি।’
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জেলায় লিচু বাগানের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি ভালো দাম পাচ্ছেন বাগান মালিকরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’










