বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও কৃষকের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি, গবাদি পশু, ফলদ ও বাঁশের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং প্রধান অতিথি হিসেবে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। গতকাল সকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের চেয়ারমান ক্যশৈহ্লা। উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য শফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন রায়হান কাজেমী প্রমুখ।
প্রায় চার বছর আগে ভেঙে ফেলা যশোর শহরের আরএন সড়কের নতুনবাজারের জায়গায় এখনো বহুতল মার্কেট নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরসভার প্রতিশ্রুতিতে অপেক্ষমাণ নতুন বাজারের ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শিগগিরই সেখানে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহরের আরএন সড়কের নতুনবাজারে যশোর পৌরসভার মালিকানাধীন ১১০টি দোকান ছিল। সেখানে মোটর পার্টস, হোটেল ও মুদি দোকাসহ কাঁচাবাজারের টংঘর ছিল। ২০১৯ সালের জুনে নতুন স্থাপনা করার লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও পৌর কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এতে ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। আহত হন এক পুলিশ সদস্য ও তিন ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারটি উচ্ছেদের সময় পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেছিল, অল্প সময়ে সেখানে আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হবে। কিন্তু প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে নির্মাণ করা হয়নি নতুন কোনো স্থাপনা। এ দীর্ঘ সময় এলাকাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে ব্যবসা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই বাজারের উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা।
নতুন বাজারে টংঘরে মুদি ব্যবসা করে সংসার চালাতেন আজম আলী। উচ্ছেদের পর ঠিকানা পাল্টে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি পাশেই ছোট্ট একটি ঘরে এখনো ব্যবসা করছেন। দীর্ঘ চার বছর আশায় বুক বেঁধে আছেন নতুন মার্কেটে তার ঠিকানা হবে। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না দেখে তিনি হতাশ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আর সংসার চলে না। প্রায় ৩০ বছর ধরে এ বাজারে দোকান দিয়ে সংসার চালিয়ে এসেছি। এখন এ খুপড়ি ঘরে কোনো রকম ব্যবসা করছি। কবে নাগাদ মার্কেট হবে বা হলেও আমাদের নামে ঘর বরাদ্দ হবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।’
মুনসুর মিয়া নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভেঙে ফেলা মার্কেটে ছোট্ট একটা ঘরে খাবারের হোটেল ছিল আমার। উচ্ছেদের পর থেকে পথে পথে হালিম বিক্রি করে কয়েক দিন চলেছি। এখন শরীরে বাসা বেঁধেছে জটিল রোগ। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। পৌরসভা আমার ঘরটি ভেঙে দিল, কিন্তু এখন আর সেখানে মার্কেট নির্মাণ করছে না। অথচ আমরা প্রতিদিনই পৌরসভাকে ভাড়া দিয়ে সেখানে ব্যবসা করে এসেছি। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, খুব দ্রুত যেন সেখানে মার্কেট নির্মাণ করে আমাদের মাঝে ঘর বরাদ্দ দেয়।’
নতুনবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল ফারুক লিটন বলেন, ‘১৯৬৭ সাল থেকে বাজারটি চলে এলেও ২০১৯ সালের জুনে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। সে সময়ে পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা দিয়েছিল সেখানে মার্কেট করে দেবে। কিন্তু সেটি শুধু যে নিছক কথার কথা ছিল তা আমরা এখন বুঝতে পারছি। আমরা বর্তমান মেয়রের সঙ্গে কয়েক দফা দেখা করেছি। তিনি ফান্ড পেলে সেখানে মার্কেট করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে কবে নাগাদ তা বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।’
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণী খান পলাশের সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েক দফা যোগাযোগ করেও সম্ভব হয়নি। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ হাসান বলেন, ‘উচ্ছেদ হওয়া নতুনবাজারের ওই স্থানে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক মার্কেট নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। ২০২১ সালে এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার চুক্তি হয়েছে। এরই মধ্যে ওই প্রকল্পের কর্মকর্তারা নতুনবাজার এলাকা পরিদর্শন করে আমাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন। আশা করা যায়, খুব দ্রুতই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম দফা সেখানে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। পরে আরো পাঁচতলা অর্থাৎ মোট ১০ তলা মার্কেট হবে। মার্কেটে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।’










