গতকাল বিকালে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী মাদরাসায় এসে পৌঁছালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অতিথি আপ্যায়ন কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী মাদরাসায় এসে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে ছোট ছোট শিক্ষার্থীর কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। এতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসা প্রাঙ্গণে বিশেষ প্যান্ডেল তৈরি করা হয়।

প্রবীণ ইসলামী পণ্ডিত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসার অধ্যক্ষ।

শাহ আহমেদ শফীর (রহ.) কবর জিয়ারত: পরে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় হেফাজতে ইসলামের প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারী মাদরাসা প্রাঙ্গণে আল্লামা শাহ আহমেদ শফীর কবরে ফাতেহা পাঠ করে জিয়ারত করেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় অধ্যক্ষ মাওলানা খলিল আহমেদ কুরেশী উপস্থিত ছিলেন।

কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রীকে অধ্যক্ষ মাদরাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে আলেমদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কুশল বিনিময় করেন। বিদায় নেয়ার সময় মাদরাসার মাঠে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করেন।

২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি দেশের কওমি অঙ্গনের একজন শীর্ষ মুরব্বি ছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন দশক তিনি বৃহৎ কওমি মাদরাসা আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলামের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।