জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধে সাতক্ষীরায় নাগরিক সমাবেশ হয়েছে। এছাড়া শহরের রাধানগর প্রাণসায়ের খালপাড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘গ্লোবাল ডে অব অ্যাকশন অ্যান্ড ফসিল ফুয়েলস ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ, ব্রতী, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন, স্বদেশ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা কমিটি আয়োজিত কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা।
নাগরিক সমাবেশে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র তৈরির ঘোষণা, এশিয়ার এলএনজি বাজারে আধিপত্য জোরদারে জাপানের আগ্রাসী কার্যক্রম জলবায়ু পরিবর্তনরোধে উদাসীনতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া চীন ও জাপানের নৌবহরের সক্ষমতা বাড়ানো কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কয়লাভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সভা-সম্মেলনে বৃহৎ শক্তির দেশগুলো বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য দিলেও আদতে তারা জলবায়ু পরিবর্তনকে নিজেদের নেতৃত্ব জাহির করার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আমাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার শুরু করতে হবে। সর্বস্তরে কয়লা জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। গ্যাস ও এলএনজি জলবায়ু এবং জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কোনো সমাধান নয়, বরং সবুজায়ন-নবায়নযোগ্য জ্বালানিই ভবিষ্যৎ। গ্যাস ও এলএনজিতে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে। দ্রুত ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও জলাবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের কপ-২৭ সম্মেলনে ৮০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে কয়লানির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে। এর আগে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে চাইলেও অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় বহু দেশের বিরোধিতায় সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষ করে ধনী দেশগুলোর বিরোধিতার ফলে ওইসব পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।










