দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পেট্রলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাস্তবতার নিরিখে সামঞ্জস্যপূর্ণ জ্বালানি তেল সরবরাহ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, আতঙ্ক ও গুজবের কারণে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

রাজধানীর মগবাজারে আজ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে। সেখানে সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য উপস্থাপন করেন আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

সংগঠনের নেতারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে অস্থিরতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাম্পগুলোয় স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হলেও গুজব ও আতঙ্কের কারণে কিছু স্থানে হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

তারা বলেন, পাম্প মালিকরা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়; বরং সব সময় সরকারকে সহযোগিতা করে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে। ‘প্যানিক বায়িং’ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে এবং এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়। একজনের অতিরিক্ত মজুত অন্যজনকে প্রয়োজনীয় তেল থেকে বঞ্চিত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি বারবার আশ্বস্ত করেছে, দেশে তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। গুজব ছড়ানো ও অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পাম্পগুলোর পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি সংকটপূর্ণ উল্লেখ করে বলা হয়, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও পাম্পে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংগঠনটি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রলপাম্পে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাস্তবতার আলোকে তেল সরবরাহ সমন্বয়, ক্রেতাদের ধৈর্য ধারণে উদ্বুদ্ধকরণ, ট্যাঙ্ক খালি না থাকলে জ্বালানি তেল না নিতে সচেতনতা তৈরি, বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা নির্ধারণ, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদার, ট্যাংকলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

সংগঠনটি সরকারের তদারকি জোরদার এবং ট্যাগ অফিসার নিয়োগের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য, সচেতনতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। আতঙ্ক নয়, বরং শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে এ সাময়িক সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে।