বর্ষা মৌসুম শেষ হতেই পদ্মার আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। গতকাল ভোর থেকে নৌপথে বন্ধ রয়েছে ফেরি চলাচল। এতে নদীর উভয় পারে দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। সংকট নিরসনে নদীতে ড্রেজিং করেও সুফল মিলছে না বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা। এর আগে ১ নভেম্বর রাতে নাব্য সংকটে নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ম্যানেজার আবু আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নৌপথে বর্তমানে চারটি রো রো ফেরি চলাচল করছে। যানবাহন নিয়ে প্রতিটি ফেরি চলতে গেলে কমপক্ষে আট ফুট পানির প্রয়োজন হয়। কয়েকদিন নদীতে পানি কমতে থাকায় মূল চ্যানেলের বিভিন্ন অংশে ডুবোচর জেগে উঠেছে। ওইসব স্থানে পানির গভীরতা ছয় ফুটের নিচে নেমে গেছে। এতে কোনোভাবেই ফেরি চলাচল সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে গতকাল ভোর থেকে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।’

ডিজিএম নাসির মোহাম্মদ চৌধুরী জানান, কয়েকদিন ধরে নাব্য সংকটের কারণে নৌপথের আরিচা ঘাটের অদূরে ডুবোচরে ফেরি চলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছিল। এর পরও হাফলোড নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়। কিন্তু নদীতে পানি দ্রুত কমতে থাকায় চ্যানেলটি আরো সুরু হয়ে গেছে। এতে চ্যানেলটি একেবারেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।’

এদিকে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং ইউনিটের আরিচা অঞ্চলের প্রকৌশলী ওসমান গণি বলেন, ‘‌চলতি বছর আরিচা-কাজিরহাটসহ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ৩৮ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নাব্য ঠিক রাখতে ২৪০ ফুট প্রস্থ বেসিং ও ১০ ফুট গভীরতার চ্যানেল তৈরির কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু ডুবোচরের কারণে পলি অপসারণ করতে না করতেই আবার চ্যানেল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চ্যানেলের গভীরতা ঠিক রাখা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ চ্যানেলের গভীরতা রক্ষা করা যাবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না তিনি।

এদিকে আরিচা সড়কে আটকে পড়ে ট্রাকের চালক-হেলপারসহ শ্রমিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা শেষে অনেকেই অন্য পথে গন্তব্যে রওনা দেন। যারা নদী পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের দুর্ভোগ চরম।