খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় গাইবান্ধা, বগুড়া ও মৌলভীবাজারে আরো তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল দিনের বিভিন্ন সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—

খাগড়াছড়ি: জেলার বাঘাইহাট থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহনের একটি বাস পাহাড়ের ঢালু পথ ধরে নামার সময় চাকা ফেটে যায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি উল্টে পড়ে। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি-মাটিরাঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের সাপমারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন দীঘিনালার কলাখালী মুসলিমপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে আবদুর রাজ্জাক (৭২) ও চৌধুরীপাড়া এলাকার বিন্দু চাকমার ছেলে অনিল চাকমা (৩২)।

মাটিরাঙ্গা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটিরাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

গাইবান্ধা: জেলার পলাশবাড়ীতে বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বিকালে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের ঢোলভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাকিব (১৭) পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের আসমতপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।

পলাশবাড়ী থানার ওসি জুলফিকার আলী ভুট্টু জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বগুড়া: দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেকটি ট্রাকের ধাক্কা লেগে এক হেলপার নিহত হয়েছে। গতকাল সকাল ৮টার দিকে শেরপুর উপজেলার ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফেরদৌস (১৬) বগুড়া সদর উপজেলার কোয়ালিপাড়া গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আল আমিন জানান, ঢাকা থেকে গরু বিক্রি করে ফেরার পথে এক‌টি ট্রাক শেরপুর উপ‌জেলার ছোনকা এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চালক সামান্য আহত হলেও হেলপার ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

মৌলভীবাজার: জেলার কুলাউড়ায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। গতকাল বেলা ২টার দিকে উপজেলার আছুরিঘাট এলাকায় মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সালাউদ্দিন (২৫) বড়লেখা উপজেলার ভোলারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।

কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামীম আহমদ জানান, সালাউদ্দিন মোটরসাইকেলে কুলাউড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেলের পেছনে সামাদ নামে আরো এক যুবক ছিলেন। তিনি সালাউদ্দিনের বন্ধু। আছুরিঘাট এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি উল্টে পড়ে সালাউদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে পেছনে থাকা সামাদ অক্ষত রয়েছেন।