একই দপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের ক্যাডার-ননক্যাডার বৈষম্যের কারণে দেশের কৃষক সরকার প্রণীত মৃত্তিকা অধিদপ্তরের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মাটির গুণাগুণ ও সার এবং সুপারিশমালা সঠিকভাবে না পাওয়ার কারণে কম হচ্ছে উৎপাদনও। এ বৈষম্যের অবসান না হলে ভবিষ্যতে দপ্তরটিতে আরো বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এ দুটি ধারা বিলুপ্ত করে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে একই ধারার প্রবর্তন করেছে।

পৃথিবীর সৃষ্টিকাল থেকে মাটিকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে মানুষ। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষি। জীবন-জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে এবং মানুষের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে মাটির বিকল্প নেই। আদিকাল থেকে মাটিকে ব্যবহারের ফলে তার জৈব সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে বহুগুণে। সেই সক্ষমতা ফিরিয়ে এনে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ১৯৬১ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয় মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) সূচনা করে। প্রকল্পটি বিলুপ্তির পর ১৯৮৩ সাল থেকে ক্যাডার নিয়োগ পরিধির আওতায় এনে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক নিয়োগবিধি চালু করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানে দুটি ধারা প্রণয়নের কারণে সৃষ্টি হয় বৈষম্য। যে কারণে মাঠ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড ও কর্মপরিবেশ বিঘ্নিত হতে থাকে। একই শিক্ষাগতযোগ্যতা ও উভয় পদধারী কর্মকর্তা বিসিএস কোয়ালিফাই করে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের রশি টানাটানির ফলে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের ভেতর অসন্তোষ জন্ম নিতে থাকে। এর শিকার হতে থাকেন কৃষক। মাঠ পর্যায়ে কৃষক সেবা বৃদ্ধি, মাটির সুস্বাস্থ্য রক্ষার্থে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন এবং বৈষম্য নিরসনের বিষয়টি উপলব্ধি করে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় ক্যাডার-ননক্যাডার কর্মকর্তাদের একীভূতকরণের জন্য ২০১৮ সালের মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি স্মারক প্রদান করে।

এ ব্যাপারে এআরডিআইয়ের প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাব্বির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি ধারাকে বিলুপ্ত করে একই ধারা প্রবর্তনের মাধ্যমে সুষ্ঠু সেবা প্রদান নিশ্চিত করেছেন। আমরা কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সুদৃষ্টির মাধ্যমে এসআরডিআইয়ের বৈষম্য দূরীভূত করে কৃষক সেবার মান উন্নত করার জন্য সহায়তা চাই।

নন-ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. আব্দুল আহাদ মণ্ডল বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু বর্তমানে দুটি ধারা বিরাজমান থাকায় আমরা পিছিয়ে। জাতীয় স্বার্থে এবং কৃষিকে উন্নত ও কৃষকসেবা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য এ বৈষম্য জরুরি ভিত্তিতে দূরীভূত করা প্রয়োজন। চলমান দুটি ধারা পরিবর্তন করে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো একটি ধারার প্রবর্তন করলে সরকারের সাংগঠনিক কাঠামোর সুফল কৃষক ভোগ করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।