প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ২২ জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করছে সরকার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের সার্বিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করতে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আজ দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবাকে কোনো দয়া বা দান হিসেবে দেখছে না। এগুলো সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার। অন্য সাধারণ নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

তিনি জানান, ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এরই মধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধীবান্ধব কয়েকটি প্রকল্পও হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২২ জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এরই মধ্যে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান ড. মুহিত। বাংলাদেশ রেলওয়ের সব শ্রেণির ট্রেন ও মেট্রোরেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নির্মাণ করা সব স্টেশনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত শুধু র‌্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ভ্রমণ সহজ করার বিষয়েও কাজ চলছে। টিকিট কেনা, বাহনে ওঠা এবং শৌচাগার ব্যবহারসহ ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে প্রতিবন্ধীদের জন্য সহজ ও প্রবেশগম্য পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলো আরো সুসংগঠিত করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিবন্ধী শিশুরাও শিক্ষার সুযোগ পাবে।

একইসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হচ্ছে। এর ফলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কোনো শিশু যেন সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা, ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার এবং সাঙ্গকেতিক ভাষার প্রচলন নিশ্চিত করতেও কাজ চলছে।

সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে সহজে প্রবেশ ও সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী প্রতিটি মানুষের মধ্যে কোনো না কোনো বিশেষ মেধা বা দক্ষতা রয়েছে উল্লেখ করে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এ বিষয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।