ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। গত রোববার চেম্বারের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে সিলেট অঞ্চলের রেল যোগাযোগের উন্নয়নে কয়েকটি সুপারিশও দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সিলেট-আখাউড়া রেলপথে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে দুর্ঘটনা। ১৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ রেললাইনে পর্যাপ্ত হুক, ফ্রিশ প্লেট ও ক্লিপ নেই। অধিকাংশ পুরনো কাঠের স্লিপার নষ্ট। মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন ও জরাজীর্ণ বগির কারণে শিডিউল বিপর্যয়, ট্রেন লাইনচ্যুতি, টিকিট অব্যবস্থাপনা ও যাত্রীসেবার মানের নিম্নমুখিতাসহ বিভিন্ন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ইঞ্জিন দিয়ে ট্রেন চলাচলের কারণে প্রায়ই এ পথে ইঞ্জিন বিকলের ঘটনা ঘটছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ সিলেট-আখাউড়া রেলপথ দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি ট্রেনের নতুন ইঞ্জিন সংযুক্ত করার প্রয়োজন।

এতে আরো বলা হয়, চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর ধর্মপ্রাণ মানুষ সিলেটে হজরত শাহজালাল (রা.), হজরত শাহপরান (রা.) ও ৩৬০ আউলিয়ার মাজার দর্শনে আসেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর নগরী হওয়ায় এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা নিলাম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রচুর ব্যবসায়ী সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথ দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সিলেট-চট্টগ্রাম রেলরুটে চলাচলকারী ট্রেনে শিগগির তাপানুকূল বগি সংযুক্ত করা প্রয়োজন। সিলেট চেম্বারের সঙ্গে এক সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে আলাপ করেছেন এবং তিনি তাকে এ ব্যাপারে আশ্বস্তও করেছেন। এ উদ্যোগ খুব দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে সিলেট চেম্বার আশাবাদী। এতে যাত্রীসেবার মান যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি রেল বিভাগের আয়ও বাড়বে।

চিঠি পাঠানোর কথা সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি পর্যটন খাতে সিলেটের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার বণিক বার্তায় ‘সিলেট-আখাউড়া রেলপথ: ১৭৯ কিলোমিটারে ১৩ ডেড স্টপ, পাঁচ মাসে ১১ দুর্ঘটনা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদনে রেলের গুরুত্বপূর্ণ এই সেকশনের দৈন্যদশার চিত্র তুলে ধরা হয়।