খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার দিনগত রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে এসব রোগীর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ১৯ জুনও করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে সাতজনের মৃত্যু হয়। এ পর্যন্ত খুমেক হাসপাতালে উপসর্গ নিয়ে ৬৪ জনের মৃত্যু হল।
সবশেষ উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিরা হলেন মহানগরীর বাবু খান রোডের মৃত সুলতান আলীর ছেলে পান্না ওয়াজেদ (৭০), টুটপাড়ার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে মহাসিন খোকন (৫৫), খানজাহান আলী থানার মরিয়াম বেগম (৫৬), সোনাডাঙ্গা সোনার বাংলা গলির অলিউল্লাহর ছেলে ইয়াছিন (৬৮), দৌলতপুরের কৃষি কলেজ মেইন গেট এলাকার আবু তালেবের ছেলে মোঃ হারুনার রশিদ (৫৫), নড়াইল সদর উপজেলার মহেশখোলা গ্রামের মৃত আক্কাস শেখের ছেলে কাশেম শেখ (৩৬) ও হাড়িয়ার খোপ গ্রামের অমর হাজরার ছেলে গৌতম হাজরা (৫০)।
খুমেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ও করোনা ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. মিজানুর রহমান জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য উপসর্গ নিয়ে মৃতদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
খুমেক উপাধ্যক্ষ ডা. মেহেদী নেওয়াজ জানান, খুলনায় মঙ্গলবার নতুন করে ৬২ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়াও বাগেরহাট ৬, যশোরে ১ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ২৮২টি। এর মধ্যে খুলনার ১৯৯টি নমুনা। মোট পজেটিভ আসছে ৬৯টি। এ পর্যন্ত খুলনায় এক হাজার ২০৬ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট অবস্থায় পান্না ওয়াজেদকে গত সোমবার বিকেল পৌঁনে ৫টায় হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এছাড়া তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
উপসর্গ নিয়ে টুটপাড়ার সরকারি সুন্দরবন কলেজ এলাকার মহাসিন খোকন সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় ভর্তি হয়ে রাত ১১টায় মারা যান। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কাশেম শেখ সোমবার বিকেল সোয়া ৫টায় ভর্তি হয়ে রাত পৌনে ২টায় মারা যান। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মরিয়ম সোমবার বিকেলে ভর্তি হয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে মারা যান।
আর সোমবার দিবাত রাত ১০টা ৪০ মিনিটে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়ে দৌলতপুর কৃষি কলেজ মেইন হারুনার রশিদ (৫৫) রাত সাড়ে ১২টায় মারা যান। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সোমবার দিনগত রাত তিনটা ৫০ মিনিটে নড়াইলের হাড়িয়ার খোপ এলাকার গৌতম হাজরা (৫০) ভর্তি হয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মারা যান।










