সাগরে
মাছ ধরায় বছরে তিন দফায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। একটি ৬৫ দিনের, আরেকটি
২২ দিনের। এছাড়া নভেম্বর-জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা
ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে সরকারের পক্ষ থেকে। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা সরকারি সহায়তা হিসেবে নির্ধারিত পরিমাণ চাল পান। গত পাঁচ বছরে
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জেলে পরিবারে সদস্য সংখ্যা বাড়লেও আনুপাতিক হারে বাড়েনি বরাদ্দ। তবে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার
সময়ে গত বছর থেকে
বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র পাঁচ কেজি। কিন্তু ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার
সময়ে বরাদ্দ বাড়েনি জেলেদের।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মায়ানী ইউনিয়নের জয়নগর জেলেপল্লীর বাসিন্দা হরিপদ জলদাশ। বংশপরম্পরায় সাগরে মাছ ধরে চলে তার সংসার। পাঁচ বছর আগে তার পরিবারে সদস্য ছিল সাতজন। পাঁচ বছর পরে এসে দুজন বেড়ে হয়েছে নয়জন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়লেও সাগরের মাছ ধরার দুই নিষেধাজ্ঞায় বরাদ্দ বাড়েনি আশানুরূপ। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় তার দিন কাটে অনেকটা অনাহারে।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাগরের মাছ ধরায় তিন দফায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। একটি ৬৫ দিনের, আরেকটি ২২ দিনের। এছাড়া নভেম্বর-জুন পর্যন্ত আট মাস জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকে। আট মাসের বন্ধে শুধু জাটকা ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অন্য দুটি বন্ধে সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। ৬৫ দিনের বন্ধে মিরসরাই উপজেলার জেলেদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৮৩ টন চাল, যা দিয়ে ২ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারকে দুই দফায় ৮৬ কেজি চাল সহায়তা দেয়া হয়। ২০১৯ সাল থেকে ৮৬ কেজি করে চাল পেয়ে আসছেন তারা। দীর্ঘ পাঁচ বছরে এক কেজি বরাদ্দও বাড়েনি। অথচ সংসারে সদস্য সংখ্যা বাড়ছে প্রতি বছরই।
তবে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত দেয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় বরাদ্দ থাকে ৩৭ দশমিক ৫ টন চাল। এ সময় ১ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়। গত বছর থেকে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হলেও আগে দেয়া হতো ২০ কেজি। এছাড়া নভেম্বর-জুন পর্যন্ত আট মাসের নিষেধাজ্ঞায় ৬২০ পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি চাল দেয়া হয়, যা ২০২১ সালে দেয়া হয়েছিল ৪৫৫টি পরিবারকে। এ সময় সাগরে অন্য ধরনের মাছ ধরেন জেলেরা। তবে আট মাসের বন্ধে জেলেরা ভিজিএফ সহায়তা পায় মাত্র চার মাস।
মিরসরাইয়ে নিবন্ধিত জেলে ২ হাজার ১২৬ জন। এছাড়া নিবন্ধনের অপেক্ষায় ৫০০ জেলে। কিন্তু ২২ দিনের বন্ধে ভিজিএফ সহায়তা পায় মাত্র ১ হাজার ৫০০ জেলে। জেলেদের দাবি, মিরসরাইয়ে ২৯টি জেলেপল্লীতে প্রায় তিন হাজার জেলে রয়েছে। যারা শুধু সাগর ও নদীতে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আগে ২২ দিনের বন্ধে জেলেরা ভিজিএফ সহায়তা পেত ২০ কেজি। কিন্তু পাঁচ কেজি বাড়িয়ে গত বছর থেকে ২৫ কেজি চাল দেয়া হচ্ছে। পাঁচ বছর ধরে ২২ দিনের বন্ধে ১ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারকে চাল সহায়তা দেয়া হচ্ছে।’










