ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ধানের জমিতে ব্যবহার করা হয়েছে ন্যানো ইউরিয়া (তরল ইউরিয়া) সার। এতে যেমন দানা ইউরিয়া সারের তুলনায় খরচ কম হচ্ছে অন্যদিকে দ্রুত ও সহজে ধানের বৃদ্ধি ঘটছে। উপজেলা কৃষি অফিসের ইনোভেশন কার্যক্রমের আওতায় প্রথমবারের মতো ধানের জমিতে দেয়া হয়েছে এ সার।

সারা বিশ্বে যখন পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারকে দায়ী করা হচ্ছে, তখন বিজ্ঞানের নতুন সংযোজন ন্যানো টেকনোলজি গবেষকদের আবিষ্কার ন্যানো ইউরিয়া সার ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা কৃষি বিভাগ ও কৃষক।

ন্যানো ইউরিয়া হলো আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এক ধরনের তরল ইউরিয়া সার, যেখানে ইউরিয়ার কণাগুলো ন্যানো (খুবই ক্ষুদ্র) আকারে তৈরি করা হয়। এটি সাধারণ দানাদার ইউরিয়ার তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। ন্যানো ইউরিয়ার সুবিধা হচ্ছে কম পরিমাণে বেশি কার্যকারিতা। সাধারণ ইউরিয়ার তুলনায় অল্প পরিমাণ ন্যানো ইউরিয়া গাছের চাহিদা মেটাতে পারে। এক লিটার ন্যানো ইউরিয়া প্রায় ৪৫ কেজি দানাদার ইউরিয়ার সমতুল্য কাজ করতে পারে। ফলে কৃষকের সার বাবদ খরচ অনেক কমে। ন্যানো ইউরিয়া দ্রুত গাছের দেহে শোষিত হয়, ফলে গাছ দ্রুত পুষ্টি পেয়ে ফলন বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত দানাদার ইউরিয়া ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং পরিবেশ দূষণ হয়। ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে তা কমে আসে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ব্রি ধান-৯২ ধানের জমিতে প্রথমবারের মতো ন্যানো ইউরিয়া স্প্রে করা হয়েছে। প্রতি শতক জমিতে এক লিটার পানিতে ৪ মিলি ন্যানো ইউরিয়া স্প্রে করে আশাতীত ফল পেয়েছেন কৃষক। চারা রোপণের পর থেকে ধানের বৃদ্ধি পর্যায়ে তিন বার ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর এ সার প্রয়োগ করা হয়।

নবীনগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ন্যানো ইউরিয়ার নাইট্রোজেন গাছ মূলত আমোনিয়া বা অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট ফর্মে সরাসরি গ্রহণ করে না, যেমনটা মাটির ইউরিয়ার ক্ষেত্রে হয়, যা উদ্ভিদের পাতা থেকে শোষিত হওয়ার পর ভেতরে গিয়ে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হয়। গাছের পাতা এ কণাগুলো শোষণ করে। উদ্ভিদের অভ্যন্তরে কণাগুলো ভেঙে গিয়ে নাইট্রোজেন দেয় অ্যামোনিয়াম ও নাইট্রেট আকারে। এ ধাপে ধাপে মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া গাছের জন্য বেশি কার্যকর এবং পরিবেশের জন্যও নিরাপদ।