বরিশাল নগরীর পানি সংকট দূর করতে ২০১২ সালে নির্মাণ শুরু করা হয় দুটি ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার। ২০১৬ সালে এটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু হস্তান্তর জটিলতায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগার দুটি চালু হয়নি পাঁচ বছরেও। ফলে এগুলোর প্লেটে শ্যাওলা জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) দাবি, এখনো শোধনাগার দুটি তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। পাশাপাশি কাজও অসম্পন্ন রয়ে গেছে। তবে এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাল্টা দাবিও রয়েছে।

বরিশাল নগর ভবন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ লাখ নগরবাসীর জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন। বর্তমানে উৎপাদন করা হচ্ছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি। কিন্তু ধারণক্ষমতা না থাকায় নগরীর বর্ধিত এলাকার বিশাল অংশ বাদ দিয়ে বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ১ কোটি ৫৭ লাখ লিটার পানি। ফলে নগরবাসীর বাকি পানির চাহিদা মেটাতে কীর্তনখোলা নদীর তীরে বেলতলায় ২০১২ সালে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং নগরীর রূপাতলীতে ২০১৩ সালে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু হয়। ওই প্লান্ট চালুর মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ লাখ করে ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পাঁচ বছরেও শোধনাগার দুটি চালু না হওয়ায় জলে যাচ্ছে সরকারের ৪৩ কোটি টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শোধনাগারগুলো চালু না হওয়ায় ভেতরের হাউজে জমে থাকা পানিতে শ্যাওলা ভাসছে। বিভিন্ন প্লেটে শ্যাওলা জমে আছে। সীমানা প্রাচীরের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া কীর্তনখোলা নদীর তীব্র ভাঙনে শোধনাগারের গাইড ওয়ালের ৩০০ ফুট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে প্লান্টের একটি ভবন, গাইড ওয়ালের বাকি অংশ ও প্লান্টের কাজের জন্য তৈরি দুটি লেক।

বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল হাসান জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট ও বরিশাল নগরীতে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও ড্রেনেজ প্রকল্পের আওতায় বরিশাল নগরীর বেলতলা ও রূপাতলীতে শোধনাগার দুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ মালে এসব শোধনাগার থেকে নগরীর সাতটি রিজার্ভ ট্যাংকে পাইপের মাধ্যমে সংযোগ দেয়ার কাজও সম্পন্ন করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের শেষ ভাগে বিসিসির কাছে শোধনাগার দুটি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে পরবর্তী সময় বিসিসি নদী ভাঙনে শোধনাগার দুটি বিলীন হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন তোলে। এছাড়া কাজও যথাযথভাবে শেষ না হওয়ার অভিযোগে শোধনাগার চালু করতে আপত্তি জানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২০১৮ সালে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল প্লান্ট দুটি সরেজমিন পরিদর্শন করে। শোধনাগার দুটি নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিমুক্ত বলে প্রতিবেদন দেয় তদন্ত দল। পরে তত্কালীন মেয়র আহসান হাবিব কামাল ও জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমানের মধ্যস্থতায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে শোধনাগার দুটি বিসিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর পরও এগুলো চালু করা হয়নি। হস্তান্তরের পরও কেন বন্ধ রাখা হয়েছে তার যথাযথ কারণ জানাতে পারেনি বিসিসি। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইনুল হাসানও।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদ ফারুক আহম্মেদ বলেন, নগরবাসীর পানির চাহিদা দূর করতে দুটি প্লান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। তবে প্লান্ট দুটির নির্মাণকাজ এখনো অসম্পন্ন রয়ে গেছে। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শেষ করে নগরবাসীর জন্য শোধনাগার দুটি চালু করা হবে।