সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগতযোগ্যতা না থাকলেও মাগুরায় মাদ্রাসার এক লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদ দিয়ে চাকরির অভিযোগ উঠেছে। চাকরির আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগতযোগ্যতা ছিল না জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের বানিয়াবহু কাওড়া কাদেরিয়া আলিম মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান ওহিদুল ইসলামের। তার পরও তিনি দুই বছর ধরে ওই পদে চাকরি করে যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দাবি, তিনিসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা ও মাদ্রাসার সভাপতি ছিলেন। কেউ তখন আপত্তি করেননি।  ভুয়া সনদের বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বানিয়াবহু কাওড়া কাদেরিয়া আলিম মাদ্রাসায় সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে যোগদান করেন ওহিদুল ইসলাম। তার বাড়ি মাদ্রাসার কাছে বানিয়াবহু গ্রামের পারভাটপাড়ায়। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি অনার্স, মাস্টার্স ও লাইব্রেরিয়ান কোর্সের সনদ জমা দেন। এর পর তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে চাকরিতে যোগও দেন। দুই বছর পর সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, লাইব্রেরিয়ান কোর্সের জাল সনদ তিনি জমা দিয়েছেন। 

জালিয়াতির বিষয়ে ওহিদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগতযোগ্যতার সনদ দেখেই কর্তৃপক্ষ তাকে ওই পদে নিয়োগ দিয়েছে। ২০১৩ সালে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ১ বছরের লাইব্রেরিয়ান কোর্স করেন তিনি। এর আগে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে অনার্স এবং ঢাকার কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মাস্টার্স করেন।

বানিয়াবহু কাওড়া কাদেরিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আছাদুজ্জামান বলেন, ২০২০ সালের ১ জুলাই এ মাদ্রাসার একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে সেই নিয়োগে একজন সহকারী সুপার, একজন সহকারী লাইব্রেরিয়ান এবং একজন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেই নিয়োগ কমিটিতে তিনিসহ ছিলেন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা, জেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা এবং মাদ্রাসার সভাপতি।

 কিছুদিন হলো তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছেন লাইব্রেরিয়ান ওহিদুল ভুয়া সাটিফিকেট দিয়ে তার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। সেটি যাচাই করবেন কীভাবে তা তার জানা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি জানানো হয়নি।

ভুয়া সার্টিফিকেটে চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে মহম্মদপুর উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মালা রানী বিশ্বাস বলেন, সম্প্রতি যোগদান করায় এখনো ওই মাদ্রাসায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে যেহেতু কথা উঠেছে, আমি বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাব। তারা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বানিয়াবহু কাওড়া কাদেরিয়া আলিম মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি আব্দুস সালামের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ওই নিয়োগের সময় আমি সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম না। তখন সভাপতি ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান সংগ্রাম। এখন যেহেতু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, আমি ম্যানেজিং কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তার সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।