হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বাস চাপায় দুই অটোরিকশার নারী ও শিশুসহ ৮ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩ জন একই পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ৪টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতহাইল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কুমিল্লা থেকে সিলেটগামী বিআরটিসির একটি বাস নবীগঞ্জের সাতহাইল এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দুটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এরপর গাড়ি দুটিকে টেনে নিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। অটোরিকশা দুটি ওই বাসের নিচেই চাপা পড়ে।
খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা, শেরপুর হাইওয়ে, গোপলার বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ, নবীগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। একে একে বের করে আনা হয় ৮টি মরদেহ।
নিহতরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার মুড়াউরা গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রী সামিরুল বেগম (২৮), মেয়ে মারিয়া আক্তার (২), আবু তাহেরের ভাইয়ের স্ত্রী হালিমা বেগম (২৫), সাতাহাইল গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে অনন্ত মিয়া (২২), একই গ্রামের লিজা আক্তার (১৯), লতিবপুর গ্রামের কিতাব আলী (৩০)। বাকি দুই জন পুরুষের নাম এখনও পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণে অন্তত ৩ ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় রাস্তার দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। রাত সাড়ে ৭টায় উদ্ধার কাজ শেষ হলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, উদ্ধার কাজ চলাকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছা অন্য একটি বিআরটিসি বাস ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ তাদের শান্ত করে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি এরশাদুল হক ভূইয়া বলেন, বর্তমানে মরদেহ ও দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িগুলো শেরপুর হাইওয়ে থানার জিম্মায় রয়েছে। এছাড়া উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।










