চাঁদপুরে শতভাগ আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি মিলছে না। অথচ দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আর্সেনিক নিয়ে কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও চাঁদপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট নামের দুটি সংস্থা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর চাঁদপুরের ভাষ্যমতে, বর্তমানে চাঁদপুরের ৮ উপজেলার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের মধ্যে ৭০ শতাংশের পানির উৎস আর্সেনিকমুক্ত ও নিরাপদ। বাকি ৩০ শতাংশ মানুষ এখনো আর্সেনিকমুক্ত ও নিরাপদ পানি পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলায় একসময় প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করত। আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও ছিল প্রায় ৮ হাজার। এখন এই সংখ্যা শূন্যের কোটায়। আর্সেনিকের হাত থেকে রক্ষা ও সুপেয় পানির উৎস বৃদ্ধিতে সরকারের নানা উদ্যোগের কারণে তা এখন অনেক উন্নত হয়েছে।
চাঁদপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্যে জানা গেছে, ১৯৯৩ সালে চাঁদপুরে প্রথম নলকূপে আর্সেনিক শনাক্ত হয়। এরপর জেলার আট উপজেলার অধিকাংশ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত হতে থাকে। ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে জেলার সর্বত্র আর্সেনিকের থাবা। তবে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকলেও সচেতনতায় অনেকাংশেই রক্ষা পেয়েছে এ জনপদের মানুষ। মানুষ নলকূপের পানি পান করা থেকে বিরত থাকা ও বিকল্প সুপেয় পানি গ্রহণ করায় আর্সেনিক আক্রান্তের সংখ্যা বড়েনি।
চাঁদপুরে আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারের ওপর জনসচেতনতামূলক কাজ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চাঁদপুর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সংস্থা। এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সেলিম পাটওয়ারী বলেন, ‘২০০৪ সালে সরকারের আর্সেনিক মিটিগেশন প্রকল্পের আওতায় আমরা পাড়া-মহল্লায় জনসচেতনতামূলক কাজ করেছি। বিশেষ করে আমাদের মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষায় আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও এসেছে। এখন এ ধরনের কোনো প্রকল্প নেই। যে কারণে পরিসংখ্যানও বলতে পারছি না। তবে সরকার এখন সুপেয় পানির ওপর বেশি জোর দিয়েছে।’
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী এখন চাঁদপুর জেলায় নেই। এ-সংক্রান্ত কোনো রিপোর্ট উপজেলা থেকেও জেলায় আসে না। একসময় জেলার শাহরাস্তি উপজেলায় অনেক বেশি আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী ছিল। চিকিৎসা দেয়ার পর তারা সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
চাঁদপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘চাঁদপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত গভীর নলকূপ স্থাপন ও পৌর এলাকায় পাম্প হাউজ এবং ভূ-উপরিভাগের পানি শোধন করা হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৭০ ভাগ মানুষ আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির আওতায় এসেছে। প্রত্যেক আর্থিক বছরে জেলায় গভীর নলকূপ বসানো হচ্ছে। এছাড়া অনেকে ব্যক্তিগত খরচে গভীর নলকূপ বসিয়ে নিচ্ছে। সেই সংখ্যাটি আমাদের জানানো হয় না। কিংবা তাদের পানিতে আর্সেনিক আছে কিনা তাও পরীক্ষা না করায় নিশ্চিত হওয়া যায় না।’










