তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এর অন্যথা হলে বিষয়টি রাজপথেই ফয়সালা করা হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।
গতকাল ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং পুলিশি হামলায় বিএনপি কর্মীদের মৃত্যু, হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের দাবি হলো খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, তারেক রহমানের ওপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন। সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর যেসব মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে সেগুলোও প্রত্যাহার করে নিতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার ভোট ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের পর কেউ ভোট দিতে পারেনি। গাইবান্ধার উপনির্বাচনই প্রমাণ করে দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই এ সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ এবং সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আইন করে মানুষের মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল সরকার। কিন্তু এসব করে মানুষের মুখ বন্ধ করা যাবে না। আজ গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত উত্তাল তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। এ আন্দোলনের তরঙ্গে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে।
গতকাল সমাবেশ মঞ্চের মাঝ বরাবর একটি চেয়ার খালি রাখা হয়, যা দেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এ চেয়ারটি খালেদা জিয়ার। অচিরেই তিনি মুক্ত হয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়মারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, দলেন সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ময়মনসিংহ (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
ময়মনসিংহে বিএনপির এ বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার রাত থেকেই সমাবেশস্থলে অবস্থান নিতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। সেদিন রাতে হাজারো নেতাকর্মী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠেই রাত কাটান। গতকাল ময়মনসিংহে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নেতাকর্মীরা ট্রাক, পিকআপ, টেম্পো, সিএনজি অটোরিকশায় করে সমাবেশস্থলে আসে। অসংখ্য নেতাকর্মীকে হেঁটেও আসতে দেখা যায়।










