করোনা সংক্রমণের ফলে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে প্রায় ১৬ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। করোনা পরিস্থিতি অনুযায়ী গত বছরের মার্চ মাস থেকে দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি। সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং শিক্ষার্থীদের টিকাগ্রহণ সম্পন্ন করে সেপ্টেম্বরে খোলা হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং পরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে- এমনটাই জানানো হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিনের আওতায় আনা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জরিপ অনুযায়ী পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ৭২.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ভ্যাক্সিনের আওতায় এসেছে। 

শিক্ষার্থীদের চাওয়া বিবেচনা করে সেপ্টেম্বরেই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করলে শিক্ষা-কার্যক্রম চালু হবে এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ টি অনুষদের মধ্যে কৃষি অনুষদে ৭১%, ব্যবসা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা অনুষদে ৬৮%, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ৬৯%, এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদে(ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন ও এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী) ৮০%, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে ৭১%,পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদে ৮৬%, নিউট্রিশন ও ফুড সায়েন্স অনুষদে ৬০% এবং ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এডমিনিষ্ট্রেশন অনুষদে ৭৭% শিক্ষার্থীরা ভ্যাক্সিনের আওতাভুক্ত হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় খোলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পবিপ্রবির কৃষি অনুষদের ৭ম সেমিস্টারের ছাত্র মেহেদী হাসান তারেক বলেন,"যেহেতু পবিপ্রবির শতকরা ৭২.৫ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই ভ্যাক্সিনের আওতায় এসেছে এবং কিছুদিনের মধ্যে ৮০% অতিক্রম করবে সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ থাকবে আগামী মাসে যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দিয়ে সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষার আয়োজন করা"। 

বিশ্ববিদ্যালটির মাস্টার্সের ছাত্র তুহিন রায়হান বলেন,"পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মফস্বল এরিয়ার হওয়ায়, উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবার আওতাভুক্ত না হওয়ায় অনলাইন ক্লাস করতে সক্ষম হয়নি। আমাদের পবিপ্রবিতে যেহেতু আগস্ট মাসের মধ্যে ৮০% শিক্ষার্থীর দুই ডোজ ভ্যাক্সিন দেয়া হয়ে যাবে আশা করা যায়। তাই যতদ্রুত সম্ভব ইউজিসির এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া উচিত। 

"পবিপ্রবির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন," থেমে থাকা শিক্ষা-কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে এবং গরিব শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ঝড়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও সুস্থ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে পবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিনের আওতাভুক্ত করার জন্য কাজ করছি। ভিসি স্যার ও রেজিস্ট্রার মহোদয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সিভিল সার্জন পটুয়াখালী, ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ডিজি হেলথে যোগাযোগ করে যে ছাত্রদের জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর নাই তাদেরও টিকার আওতায় নিয়ে এসেছেন এজন্য তাদের ধন্যবাদ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিষ্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) ড.মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং ইউজিসিকে অসংখ্য ধন্যবাদ শিক্ষার্থীদের ভ্যাক্সিনের আওতায় নিয়ে আসায়,আমরা আশাবাদী খুব শীঘ্রই ক্যাম্পাসের শতভাগ শিক্ষার্থীকে ভ্যাক্সিনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবো”।