সরকারের ব্যর্থতার জন্যই সেন্ট মার্টিনের দুরাবস্থা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন ইস্যুতে সরকারের নীরবতা দাসসুলভ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।’

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার পথে মিয়ানমার থেকে গুলি করা হচ্ছে, সেখানে খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। কিন্তু সরকার এখনো নীরব। সরকারের নতজানু নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। বাংলাদশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলেছে সরকার। সীমান্তে হত্যা করলেও, পানি না দিলেও সরকার কথা বলে না। বর্তমান সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। ডান-বাম সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সরকারঘনিষ্ঠদের দুর্নীতি দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। সাবেক পুলিশপ্রধান ডাকাতের মতো সম্পদ অর্জন করেছেন।’

ভাইদের পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের বিচার দাবি করেন তিনি।

সব দলকে নিয়ে আন্দোলন বেগবান করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, এ সরকারকে সরিয়ে দেয়া। মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা হয়তো তাদের জেগে ওঠাকে কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারিনি। তবে নতুন সূর্যদয় হবেই, সেখানে অবশ্যই আমাদের পৌঁছতে হবে। এরা রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে এবং অর্থনৈতিক কাঠামোও ধ্বংস করেছে। জনগণ জেগে ওঠেনি এ কথা বলব না। জনগণ জেগে উঠেছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে জনগণ বহু প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছে। এ সরকার দেশের সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে। আমাদের সুর একটাই, এ সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। আন্দোলন চলছে, আন্দোলন চলবে, শিগগিরই আমাদের আন্দোলন আরো বেগমান হবে।’

নিজেদের সংগ্রাম নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দল একত্র হতে পেরেছি। কীভাবে এ সরকারকে সরাতে পারি, কীভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে পারি, সেই লক্ষ্যেই আমরা সংগ্রাম করছি। আসুন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করি। বিশেষ করে তরুণ যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ এ সংগ্রাম শুধু বিএনপির একার নয়, এ সংগ্রাম দেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সংগ্রাম।’