প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সুন্দরবনের জীবজন্তুর জীবনপ্রবাহেও। সম্প্রতি একটি বসতবাড়ির হাঁস-মুরগির খোপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দীর্ঘকায় এক অজগর। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের কারণে সাগরের নোনাপানি সুন্দরবনে ঢুকে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নোনাজলের তাড়নায় লোকালয়ের দিকে পাড়ি জমিয়েছে সাপসহ অন্যান্য জীবজন্তু।
এদিকে আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে সুন্দরবনের অদূরে মোংলার চিলা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বাড়িতে সাপটি পাওয়া যায়। পরে বাড়ির মালিক রাসেল হাওলাদার বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরা এসে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত সাপটির ওজন ১২ কেজি, লম্বা ৯ ফুট। ৫টি হাঁস ও ২টি মুরগি মেরে ফেলেছে। পরে সাপটিকে বনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টাফ মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ৫-৬ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বাতাসে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনে লোনা পানি ঢুকেছে। জলোচ্ছ্বাসে সাপটি সুন্দরবন থেকে ভেসে লোকালয়ে চলে আসতে পারে।
এর আগে পূর্ব সুন্দরবনে হরিণের চারটি মৃতদেহ ও দুটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করা হয় বলে জানান সুন্দরবন খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক মঈনুদ্দিন খান।
সুন্দরবনের দুবলা জেলে পল্লীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর হাসান ইমরান জানান, ইয়াসের প্রভাবে উঁচু জোয়ারের কারণে বন্যপ্রাণীদের বনের মধ্যে তুলনামূলক উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। জোয়ারের সময় ফাঁড়ির পুকুরের পাড়ে কিছু হরিণ ও এর বাচ্চাদের আশ্রয় নিতে দেখা যায়।
ইমরান জানান, ইয়াসের পরে টহল ফাঁড়ি এলাকায় বিভিন্ন সাপের আনাগোনাও বেড়েছে।










