মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ৩৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলার জনসংখ্যা ৪ লাখ ২৭ হাজার ৯১৩। প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা নিতে নিয়মিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। ৫০ শয্যার হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের নভেম্বরে। ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সে সময় পার হলেও এখনো চালু করা যায়নি ১০০ শয্যার ভবনটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ শেষ হলেও এখনো ভবনে রয়েছে বেশকিছু ত্রুটি। এ কারণে এখনই কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না নতুন ভবনটিতে। নতুন হাসপাতালটিতে আইসিইউ, সিসিইউ, ল্যাব, উন্নতমানের কেবিন, এক্স-রে রুমসহ আধুনিক মানের কনফারেন্স রুম থাকবে। শিবচরের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন হাসপাতালটি চালু হলে।

স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের চিকিৎসার ভরসা সরকারি এ হাসপাতাল। নির্ধারিত সময়ে নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু না হওয়ার ফলে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভোগান্তি বাড়ছে রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণে ২০২০ সালের নভেম্বরে কার্যাদেশ হয়। ২০২৪ সালের ২০ জুন কাজ শেষ করার কথা ছিল। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। কাজটি পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আজাদ অ্যান্ড হামীম (জেভি)। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাজের অগ্রগতি কমে যায়। সম্প্রতি কাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা থাকলেও কিছু ত্রুটি দেখিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি গ্রহণ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মাদারীপুরের সহকারী প্রকৌশলী মো. রাজিব সরদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কাজের সময়সীমা ছিল ২০২৪ সালের জুনে। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। এছাড়া কাজ শেষ হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তরের কথা বললে তারাও কিছু সময় নেয়। কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। অল্পকিছু ত্রুটি সমাধান করে ভবনটি বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতাল ভবন হস্তান্তরের সময় কিছু ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে ভবনটি গ্রহণ করেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৫ দিনের সময় নিয়ে ত্রুটিগুলো সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছে। কাজ শেষে হাসপাতাল ও কোয়ার্টারগুলোয় পানির সমস্যা দেখা গেছে। পানিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া এক্স-রে রুমে পর্যাপ্ত রেডিয়েশন প্রুফ থাকার কথা। কিন্তু তা নেই। স্যানিটেশন ফিটিংয়ে কিছু ত্রুটি দেখা গেছে। ১০০ শয্যা হাসপাতালের নামফলকও নেই। তাছাড়া কর্মকর্তারা লিফট পরিদর্শনে গিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েন।

এ প্রসঙ্গে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাতিমা মাহজাবিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছরের ২৪ মে হাসপাতালটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা ছিল। তবে কিছু ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে, এ কারণে ভবনটি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করে আমাদের কাছে ভবন হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছে।’