হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্মাণাধীন থার্ড টার্মিনালকে সামনে রেখে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ লক্ষ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি সংস্থাটির ‘গ্রাউন্ড সার্ভিস ইক্যুইপমেন্ট’ (জিএসই) বহরে যুক্ত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজে যুক্ত করা হয়েছে ফ্রান্স থেকে আমদানি করা ছয়টি বেল্ট লোডার।

বেল্ট লোডারগুলো বোয়িং ৭৩৭, এয়ারবাস এ-৩২০ ও ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজে কার্গো ও ব্যাগেজ ওঠানামা করানোর কাজে ব্যবহার করা হবে। বেল্ট লোডারগুলোতে নিউ জেনারেশনের আধুনিক সেন্সর যুক্ত থাকায় এয়ারক্রাফটের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে যথার্থ ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন বিমানের কর্মকর্তারা।

বিমানের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থার্ড টার্মিনালকে কেন্দ্র করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জিএসই বহরকে সমৃদ্ধ করতে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে অত্যাধুনিক ইক্যুইপমেন্ট কিনেছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সক্ষমতার উন্নয়নে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ইক্যুইপমেন্ট কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু ইক্যুইপমেন্ট বহরে যুক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, নতুন নতুন ইক্যুইপমেন্ট কেনার পাশাপাশি জিএসই অপারেটর, মেকানিক নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জিএসই বিভাগের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে, যাত্রীদের ব্যাগেজ প্রাপ্তির সময় কমিয়ে আনা হয়েছে। ১৮ থেকে ৫১ মিনিটের মধ্যে ব্যাগেজ ডেলিভারির হার ৮৫ শতাংশের ওপরে উন্নীত হয়েছে। এ হার শীঘ্রই শতভাগে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এছাড়াও এয়ারপোর্ট সার্ভিসে জনবল বৃদ্ধির জন্য ১০০ গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিস্টেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে এবং আরো জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন ৩২ থেকে ৪০টি এয়ারলাইন্সের ১৬০-১৭০টি ফ্লাইটে হ্যান্ডলিং পরিষেবা দিয়ে আসছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংস্থাটি চাইছে, থার্ড টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে। যদিও এ কাজে যুক্ত করার জন্য জাপানের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।