শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, সুরক্ষা ও জীবনমান নিশ্চিত করতে ১৫ দফা শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ করেছে শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে শ্রমিকদের দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিজয়নগরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এ অ্যালায়েন্স সম্মেলনের আয়োজন করে। অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ইশতেহার উপস্থাপন করেন সদস্যসচিব ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুপারিশ আকারে তুলে ধরতেই এ যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। ইশতেহারে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, গৃহকর্মী, অভিবাসী, আউটসোর্সিং ও আত্মনিয়োজিত শ্রমিকসহ সব খাতের শ্রমিকের আইনি স্বীকৃতি, নিবন্ধন ও সুরক্ষার দাবি জানানো হয়েছে।
ইশতেহারে শোভন ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনধারণের উপযোগী মজুরি ভিত্তি ধরে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মজুরিবৈষম্য দূর করার সুপারিশ করা হয়। শ্রমিকদের জন্য রেশন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বলা হয়, গ্রাম ও শহরের শ্রমজীবী মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে রেশন এবং পর্যায়ক্রমে সবার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। রেশনিং ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বড় শহর, কারখানা ও শিল্পঘন এলাকায় টিসিবির মাধ্যমে স্থায়ী ন্যায্যমূল্যের দোকান এবং ওএমএসের মাধ্যমে শ্রমিকদের পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শ্রমিক স্বাস্থ্য কার্ড চালু ও দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার পর চিকিৎসা সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদি ভাতার কথাও বলা হয়েছে।
নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাসে উন্নীত করার দাবি জানানো হয়। বর্তমানে শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন করা হয়েছে। এছাড়া শিশু-কিশোর শ্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া, শ্রমসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়।
রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকার শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সব বিদেশী বিনিয়োগে শ্রমিকের অধিকার ও দক্ষতা উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ইশতেহারে প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি শ্রমক্ষেত্রের সংকট মোকাবেলায় জাতীয় শ্রম কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেয় অ্যালায়েন্স।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরেই এ ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার অনেকটাই নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে এসব দাবি অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, সব আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদান বড় হলেও পরিবর্তনের পর তাদের কথা উপেক্ষিত থাকে। শ্রমিকদের বাদ দিয়ে দেশের কোনো রূপান্তর সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, শ্রমিক ইশতেহার অনলাইনে সব রাজনৈতিক দলকে পাঠানো হয়েছে এবং এরই মধ্যে গণফোরাম, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্ট ও বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এটি তুলে ধরা হয়েছে। দলগুলো ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি এ আর চৌধুরী রিপন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সেকেন্দার আলী মিনা এবং নারীপক্ষের সদস্য রওশন আরা।










