দেশের উদীয়মান প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) এবং ড্যাফোডিল গ্রুপ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

উদ্যোগটি ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত গভার্নমেন্ট-টু-বিজনেস (জি-টু-বি) চুক্তির ধারাবাহিকতায় গৃহীত হয়েছে। উভয় দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে সম্পাদিত ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বিএমসিসিআই মিমোস—মালয়েশিয়ার জাতীয় অ্যাপ্লাইড গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র—এর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলে, যা সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিএমসিসিআই ও ড্যাফোডিল, মিমোস এবং এডভান্সড সেমিকন্ডাক্টর একাডেমি অফ মালয়েশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলবে। এ উদ্যোগের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আধুনিক ল্যাব স্থাপন, পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ, দেশ এবং বহির্বিশ্বে কর্মসংস্থান এবং বাংলদেশে শিল্পভিত্তিক ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বিএমসিসিআইর প্রেসিডেন্ট শাব্বির আহমেদ খান এবং ডিআইইউ’র উপাচার্য ড. এম. আর. কবির। এ সময় বিএমসিসিআই ও ড্যাফোডিল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

শাব্বির আহমেদ খান বলেন, গত বছর মিমোসের সঙ্গে আমাদের জি-টু-বি উদ্যোগের যে গতি সৃষ্টি হয়েছে, এ অংশীদারত্ব তারই ধারাবাহিকতা। বিএমসিসিআইর আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ও ড্যাফোডিলের একাডেমিক দক্ষতার সমন্বয়ে আমরা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করছি, যা দেশকে সেমিকন্ডাক্টর ও উন্নত প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে।

ড. এম. আর. কবির বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিতে ড্যাফোডিল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রকৌশলী ও উদ্ভাবকেরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের দক্ষভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বলা হয়, আমরা আশা করি, উদ্যোগটি একটি ফলপ্রসূ সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে। সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, এটি ‘‌বিজনেস ট একাডেমিয়া’ ট্রানজিশনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠবে, যেখানে শিল্পখাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে কার্যকর সংযোগ আরো শক্তিশালী হবে।

এ সমঝোতা দেশের প্রযুক্তি খাতকে বৈশ্বিক মানচিত্রে আরো সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

-বিজ্ঞপ্তি