ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান বলেছেন, ‘রমজানে বেলা সাড়ে ৩টায় অফিস ছুটির পর ইফতারের আগ পর্যন্ত ঢাকার সড়কে তীব্র যানজট দেখা যাচ্ছে। মূলত বাণিজ্যিক ভবনের অব্যবস্থাপনায় এ ধরনের যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।’ গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোয় সড়কের পাশে গাড়ি পার্কিং করা হয়, যা সড়কের প্রশস্ততা কমিয়ে দেয় ও যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। রমজানের শুরু থেকেই ট্রাফিক বিভাগ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সড়কের পাশে অযাচিত পার্কিং না করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত বাস স্টপেজে না দাঁড়িয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের টার্নিং পয়েন্টে যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সড়কের যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। এতে যানবাহনের মুভমেন্ট অনেক কমে যায়। এজন্য যাত্রীদের গণপরিবহনে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্টপেজে অপেক্ষার অনুরোধ করা হয়েছে।’
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘ডিএমপির পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিট থেকে যানবাহন অযাচিতভাবে ডিএমপি এলাকায় প্রবেশ করে যানজট তৈরি করে। ডিএমপির ট্রাফিক সদস্যদের এ বিষয়ে কড়াভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারী যানবাহনের জন্য ডিএমপি এলাকায় প্রবেশের নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে, কিন্তু অনেক সময় সে সময়সীমা না মেনে চলার চেষ্টা করা হয়, যা যানজট তৈরি করে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই ভারী যানবাহন চলাচলের বিষয়টি মেনে চলতে হবে। বিভিন্ন সময় ঢাকা শহরের ছোট, বড় সড়কে মেরামতের কাজ চলছে। জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রমজান মাসে এসব সড়ক চলাচল উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চিঠি চালাচালিও করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়কের পাশে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আছে, যা সংখ্যায় অনেক বেশি। কিন্তু রাস্তার মাঝে আইল্যান্ড ভাঙা থাকায় অনেক ক্রেতাসাধারণ ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। যানবাহনের চলাচল ও গতি এতে ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রমজান মাস ঘিরে কোনো ব্যবসায়ী সড়কে যেন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতে না পারে, এজন্য রমজানের শুরু থেকেই ট্রাফিক বিভাগ কঠোর।’
গুলিস্তান থেকে পুরান ঢাকা যাওয়ার সড়কে রাতভর যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিটফোর্ড, বাবুবাজার ব্রিজ এলাকায় বড় বড় আড়ত রয়েছে। চাল, ফল, ওষুধসহ বিভিন্ন আড়ত রয়েছে, তাই এলাকাটি এমনিতেই ব্যস্ত। এ সড়কে বিভিন্ন স্পটে ফুটওভার ব্রিজ দরকার, আর যেগুলো আছে সেগুলো ঠিকঠাক ব্যবহার হচ্ছে না। এখন ওই এলাকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে দিতে হবে, কিছু করার নেই। তবে মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে, আমরা সর্বোচ্চ ইউটিলিটি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’










