আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী, বাজেট নথি প্রস্তুত, বাজেটের তথ্য আরো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ, সরকারি রাজস্ব ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে দেশটি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৬ ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে এসব সুপারিশ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৩৯টি সরকার ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আর্থিক স্বচ্ছতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩টি সরকার ও একটি সত্তা ন্যূনতম আর্থিক স্বচ্ছতার শর্ত পূরণ করেছে। ৬৭টি সরকার শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তবে এর মধ্যে ১৪টি সরকার ন্যূনতম শর্ত পূরণের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী বাজেট নথি প্রস্তুত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী কার্যালয়গুলোর ব্যয়ের বিস্তারিত বিভাজন এবং সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের আরো পূর্ণাঙ্গ চিত্র বাজেট নথিতে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।
বছরের শেষের আর্থিক প্রতিবেদন যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পাশাপাশি সরকারের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীনতা নিশ্চিত এবং পুরো বার্ষিক বাস্তবায়িত বাজেটে সময়মতো ও সরাসরি প্রবেশাধিকারের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদন সময়মতো প্রকাশের পাশাপাশি এসব প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা ফলাফল, সুপারিশ ও বিস্তারিত বিবরণ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণসংক্রান্ত চুক্তি বা লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে মৌলিক তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য প্রকাশের বিষয়েও সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশে ই-জিপি ব্যবস্থা চালু থাকার বিষয়টি প্রতিবেদনে স্বীকার করা হলেও এর প্রবেশাধিকার ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত তথ্যের প্রাপ্যতা আরো উন্নত করার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বাজেটের তথ্য সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য। সরকারের ঋণসংক্রান্ত তথ্যও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। বাজেট নথিতে সরকারের পরিকল্পিত ব্যয় ও রাজস্বের একটি মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এবং প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে পাওয়া রাজস্বের তথ্য রয়েছে। তবে বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়নি। নির্বাহী কার্যালয়গুলোর সহায়তায় ব্যয়ের বিস্তারিত বিভাজন করা হয়নি এবং বাজেটে সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের উল্লেখযোগ্যভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক বরাদ্দ এবং এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারের আয়সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত বাজেট নথিতে রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।










