মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণি। অসাধু মাছ শিকারি চক্র অব্যাহতভাবে ধলাই, লাঘাটাসহ বিভিন্ন নদীতে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে নির্বিকার।
স্থানীয়রা জানায়, কমলগঞ্জের ভানুগাছ বাজারের উজানে ধলাই নদীতে দুষ্কৃতকারীরা বিষ ঢেলে দেয়। নদীতে দেয়া বিষ গড়িয়ে ভাটিতে নামে। এতে নদীর কয়েক মিলোমিটার এলাকায় ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ মরে ভেসে ওঠে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তর আলেপুর, কুমড়াকাপনসহ নদীর পাশের এলাকায় মরা মাছ ভেসে উঠছে। স্থানীয়রা মাছ ধরতে নদীতে বিভিন্ন জাল নিয়ে নামতে দেখা যায়। অনেকে খালি হাতেও মরা মাছ ধরছেন। সরপুঁটি, রুই, মৃগেলসহ ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠছে। মাছ পচে কোনো কোনো জায়গায় দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে ধলাই ও লাঘাটা নদীতে কয়েক দফা বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা হয়েছে। বিষক্রিয়ায় মাছের সঙ্গে ব্যাঙ, কাঁকড়া, কুচিয়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। তবে কারা বিষ ঢালে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
স্থানীয় কৃষক মোবাশ্বির আলী জানান, রাতের আঁধারে নদীতে বিষ দেয়া হয়। ফলে সব মাছ ধরাও যায় না। মাছ মরে পচে গলে ভেসে ওঠে। মানুষ মরা মাছ ধরে নিয়ে যায়। পানির স্রোতে ভাটি অঞ্চলে দ্রুত বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
কমলগঞ্জের হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব ও পতনউষার ইউপি সদস্য তোয়াবুর রহমান জানান, ধলাই, লাঘাটা ও পলক নদীতে ঘন ঘন বিষ ঢেলে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে জলজ জীববৈচিত্র্যসহ পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
কমলগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুর রহমান জানান, কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুধু মৎস্য বিভাগের একার পক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব নয়। তাছাড়া নদী, খাল, বিলে বিষ প্রয়োগ, বাঁশের খুঁটি ও কারেন্ট জালের বিষয়ে অভিযান চালাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ছাড়া কোনো শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় না। সব সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাও সম্ভব হয় না।










