কৃষিপ্রধান জেলা হিসেবে প্রতি বছরের মতো এবারো বোরোর বাম্পার ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
ফলনের সঙ্গে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
এ বছর বোরো ধান মণপ্রতি সর্বোচ্চ ১০০০-১০৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি দাম পেয়েছেন জেলার কৃষকরা।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, জেলায় ধান কাটা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
জেলার বেশির ভাগ হাটবাজারে বেশ কিছুদিন আগে থকেই ধান ও চাল কেনাবেচা শুরু হয়েছে ।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এপ্রিলের শেষ থেকে বগুড়ায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়।
আর এবার এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন ঘোষণায় কৃষকের মনে শঙ্কা দেখা গেলেও পরে তা কেটে যায়।
মে মাসে নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাব থাকলেও কৃষি শ্রমিক সংকট সৃষ্টি হয়নি।
ফলে সুষ্ঠু ও সময়মতো জেলার বেশির ভাগ উপজেলার ধান কাটা শেষ হয়।
সংকট না থাকায় বোরো ধান কেটে চাষীরা হাটে বিক্রি করেছেন।
শুরুতে কাঁচা ধান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে।
এরপর শুকনা ধান ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হয়।
পরে বিক্রি হয়েছে ১০৫০-১০৮০ টাকা মণ দরে।
বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাঁচপীর এলাকার বোরো চাষী আব্দুল বাসেদ জানান, এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, চাষ, সেচসহ বিক্রি পর্যন্ত ৯-১০ হাজার টাকা খরচ হয়।
সড়কের পাশে জমি হলে খরচ কম হয়।
জমি ভেদে ২০-২২ মণ ধান পাওয়া যায়।
এবার বাজারে দাম থাকায় কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখা গেছে।
হাটে এখন শুকনা ধান বিক্রি হচ্ছে ১০৫০-১০৮০ টাকা দরে।
ধানের দাম এমন থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন, ধান চাষেও আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
গত বছর এ সময় ধান বিক্রি হয়েছে ৬০০-৭০০ টাকায়।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলার চাষীরা সময়মতো বোরো চাষ করেন।
চাষাবাদ শেষে ফলন ঘরে তুলে কেনাবেচা করছেন চাষীরা।
জেলায় এবার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়।
চাষ হয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০৫ হেক্টর জমিতে কম চাষ হয়েছে।
ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৪ টন।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পরিবেশ দূষণ কম থাকার কারণে ফলন ভালো হয়েছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের পারতিত পরল গ্রামের রকি মিয়া জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য কলেজ বন্ধ থাকায় বোরো ধান
কাটার কাজে পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন।
দুই সপ্তাহ আগে শুকনা ধান বিক্রি করেছেন ১ হাজার টাকা মণ দরে।
তিনি এবার ধান বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন।
সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের বর্গাচাষী চুন্টু মিয়া জানান, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২৫ মণ ধান হয়েছে।
গত বছর বাজারে ধান বিক্রি করে শেষ পর্যন্ত কিছু আয় হয়েছিল।
এবার বাজারের শুরুতেই মণপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়।
পরে ৯৫০ থেকে ১০৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি বাজারের ধান ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, কাঁচা প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে, অপরদিকে শুকনা প্রতি মণ ধান ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কুদরত আলী জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ধান কাটা শেষ।
এখন বাজারে ধান ও চাল কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. দুলাল হোসেন জানান, বগুড়ায় বোরো ধান কাটা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
গত বছরের মতো এবারো ভালো ফলন পাওয়া গেছে।
জেলায় বেশির ভাগ উফশী বা উচ্চফলনশীল জাতের বোরো চাষ হয়েছে।
চলতি মৌসুমে ফলনের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া গেছে।
মোটা ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মণ আর চিকন ধান ১১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আশ্রাফুজ্জামান জানান, বগুড়া জেলায় ৭১ হাজার ৮৪৮ টন সিদ্ধ চাল, ৩ হাজার টন আতপ চাল ও ২৫ হাজার ৪৪ বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।










