টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে রাঙ্গামাটির কাচালং এবং মাচালং নদের পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের মাচালং বাজার এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল থেকে সাজেকের সঙ্গে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটকরা। অন্তত পাঁচ শতাধিক পর্যটক ৫ ঘণ্টা আটকে ছিলেন। তবে বিকল্প উপায়ে পর্যটকরা পারাপার হচ্ছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার জানান, কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাজেকে মাচালং বাজার এলাকায় রাস্তা এবং মাচালং ছড়ার ওপর ব্রিজ পানিতে ডুবে যায়। বর্তমানে মাচালং বাজারের ঢালু রাস্তা ও ব্রিজে প্রায় চার-পাঁচ ফুটের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মাচালং থেকে সাজেকগামী পর্যটকবাহী গাড়ি যাওয়া-আসা বন্ধ রয়েছে। আটকে পড়া অনেক পর্যটক সড়কের ডুবে যাওয়া অংশটিতে বাঁশের ভেলায় বা নৌকায় করে পারাপার হচ্ছেন। যারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেড়াতে এসেছেন তারা পুনরায় সাজেকে ফিরে গেছেন। সড়ক থেকে পানি নেমে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

এদিকে পানির চাপ কমাতে খুলে দেয়া হয়েছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধ। সোমবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে বাঁধের সব জলকপাট খুলে দেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদে পানির চাপ বাড়ায় বাঁধের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেয়া হয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে জলকপাট দিয়ে নয় হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের (নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) তথ্যমতে, বর্তমানে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে নদীতে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জলকপাট দিয়ে মোট ৪১ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে কর্ণফুলীতে। কর্ণফুলী অববাহিকায় হ্রদের পানির শেষ গন্তব্য বঙ্গোপসাগর।

এদিকে কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়ার আগাম খবরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খুলে দেয়ার ঘটনা অন্যান্য বছরের মতো স্বাভাবিক হলেও সম্প্রতি এটি নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তবে এটি নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও কাপ্তাই বাঁধ কর্তৃপক্ষও আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

গত সোমবার বিকালে এক বিশেষ ঘোষণায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, যেকোনো সময় জলকপাট খুলে পানি ছেড়ে দেয়া হতে পারে। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হলো।

অন্যদিকে সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) এক বার্তায় জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জলকপাট রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে খুলে পানি ছেড়ে দেয়া হবে। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার অনুরোধ করা যাচ্ছে।