সাতক্ষীরায় ২০০২ সালে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার দায়ে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলার আসামিদের মধ্যে বাকি ৪৪ জনকে দেয়া হয়েছে সাত বছর করে কারাদণ্ড। সাতক্ষীরা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এ মামলায় হাবিবুল ইসলাম হাবিব ছাড়াও উপজেলা যুবদল সভাপতি আব্দুল কাদের বাচ্চু, পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান রনজু ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি রিপনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে এ মামলার ৫০ আসামির মধ্যে ৩৭ জনকে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। জামিনে থাকা একজনও আদালতে হাজির ছিলেন। আর ১০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার চলে। মামলার বিচার চলাকালে মৃত্যু হয় দুজনের।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহানারা পারভীন বকুল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ বলেন, ‘দীর্ঘদিন চেষ্টার পর এ মামলার আসামিদের দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। সাতক্ষীরার ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এতে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করছে।’
তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলা হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাংচুরের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়া হয়েছিল সেদিন। এতে তার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা আহত হয়েছিলেন।
এ ঘটনায় কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন কলারোয়া থানায় মামলা করতে গেলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তখন সাতক্ষীরার আদালতে নালিশি অভিযোগ করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন। ওই মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। তদন্ত করে পুলিশ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্র আইনের পৃথক ধারায় দেয়া তিনটি অভিযোগপত্রের মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় হয় ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। এতে তালা-কলারোয়ার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ দলটির ৫০ নেতাকর্মীকে চার থেকে ১০ বছর মেয়াদে সাজা হয়।










