জয়পুরহাট জেলায় ধান সংগ্রহ অভিযানের সময় শেষ হয়ে এলেও এবার গুদামজাত হয়েছে কেবল এক টন ধান। অথচ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩২৬ টন ধান সংগ্রহের। মূলত বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় কৃষক সরাসরি নগদ টাকায় বিক্রি করে দেন। আবার সরকারি গুদামে ধান দিয়ে টাকা পেতে নানা জটিলতা থাকায় জয়পুরহাটে এ অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি খাদ্যগুদামে এবার ৪ হাজার ৩২৬ টন ধান ও ৯ হাজার ৬০৫ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি কেজি ধান ২৮ টাকা ও চাল ৪২ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে। অভিযান শুরু হয়েছে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আর শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ ৮০ দিনে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র এক টন ধান। তবে চাল সংগ্রহ ৫ হাজার ৯৮৬ টন হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ শতাংশ। চুক্তি অনুযায়ী জেলার ১৬৪ চালকল মালিকরা তা সরবরাহ করছেন।
কালাই উপজেলার পুনট পাঁচপাইকা গ্রামের কৃষক মিঠু ফকির বলেন, ‘আর্দ্রতা অনুযায়ী লোকজন ধান নিতে চায় না গুদামে। আবার ফ্যান দিয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে যেতে হয়। অনেক ঝামেলা, একটু হেরফের হলেই ফেরত পাঠানো হয়। এতে আর্থিক লোকসান গোনার পাশাপাশি সময়ও অপচয়। তাই কৃষক ধান দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।’
ক্ষেতলালের কৃষক ফারুক বলেন, ‘ফসল উৎপাদনের পর বাজারে নিয়ে নগদে বিক্রি করি। খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলে লেবারের পাশাপাশি অফিসারকেও খুশি করতে হয়। টাকা নিতে ব্যাংকে যেতে হয়। এত ঝামেলার চেয়ে বাজারই ভালো।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সন্তোষ কান্তি চাকমা অবশ্য বলেন, ‘এ জেলার কৃষক চিকন জাতের ধান চাষ করেন বেশি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা গুদামে ধান দিতে চান না। ফলে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না।’










