প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মামলায় আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেটি ‘ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনার ভাগ্নি ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। প্লট দুর্নীতির মামলায় ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম গতকাল টিউলিপকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ে তার মা শেখ রেহানাকে সাত বছর ও খালা শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেয়া তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় টিউলিপ সিদ্দিক বলেছেন, এ রায়কে গুরুত্ব দেয়ার কিছুই দেখছেন না তিনি। এ পুরো প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ এবং প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ ফলাফল যেমন অনুমানযোগ্য ছিল, তেমনি এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মনোযোগ সবসময় হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেটের তার ভোটারদের ওপর এবং তিনি বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতিতে বিভ্রান্ত হতে রাজি নন।

মামলায় অভিযোগ, ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিংবা আবাসন সুবিধা থাকার পরও সে তথ্য গোপন করে আইন ভেঙে দুর্নীতির মাধ্যমে শেখ রেহানা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বোনকে প্লট বরাদ্দে সহায়তা করেন শেখ হাসিনা। আর ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক তার মা রেহানাকে প্লট পাইয়ে দিতে খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে টিউলিপ বারবারই বলে আসছেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।’

গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। বোন শেখ রেহানাও সে সময় তার সঙ্গে যান। আর টিউলিপ যুক্তরাজ্যেই থাকেন। তাদের ‘পলাতক’ দেখিয়ে এ মামলার বিচারকাজ চলে। ফলে তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবী মামলা লড়ার সুযোগ পাননি।

যুক্তরাজ্যের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে লেখা এক চিঠিতে এ বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক এ মামলা লড়ার ন্যূনতম অধিকারও পাননি। অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা বা আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ কিছুই তিনি পাননি। এমনকি টিউলিপ যাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন, তাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করার পাশাপাশি গৃহবন্দি করা হয় এবং তার মেয়েকে হুমকিও দেয়া হয় বলে ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে অবশ্য বিচারক রবিউল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় পৃথিবীর যেখানে অবস্থান করুক না কেন সেই আসামিকে বিচার করতে আইনে কোনো বাধা নেই। কেবল মৃত্যুদণ্ডের ধারার মামলার ক্ষেত্রে পলাতক আসামির ক্ষেত্রে স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত) লইয়ার নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো ধারার অভিযোগ না থাকায় আসামিদের জন্য ডিফেন্স ল ইয়ার নিয়োগ প্রদানের কোনো সুযোগ নেই।’