দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত চার দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালকে নিয়ে ২০০১ সালে যাত্রা করে উপ-আঞ্চলিক জোট সাউথ এশিয়ান সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কোঅপারেশন (সাসেক)। পরে শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ এবং সর্বশেষ মিয়ানমার সাসেকে যুক্ত হয়। উপ-আঞ্চলিক জোট হিসেবে সাসেকের সক্রিয়তার প্রধান জ্বালানি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বিনিয়োগ। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এডিবির অর্থায়নে উপ-আঞ্চলিক জোটটির উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় হাতে নেয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের আকার ৬৫০ কোটি ডলারেরও বেশি, যার বেশির ভাগই যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নসংশ্লিষ্ট।
সাসেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ছে। গত অর্থবছরেও দেশটির সঙ্গে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯৮৭ কোটি ডলার। অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য থাকলেও তা খুবই সামান্য। এর কোনোটিই এখনো ২০ কোটি ডলারও অতিক্রম করতে পারেনি। এমনকি একটি দেশের (মালদ্বীপ) সঙ্গে তা ১ কোটি ডলারেরও নিচে।
দেশের বাণিজ্য খাতসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নানা শুল্ক-অশুল্ক বাধা সত্ত্বেও প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাধীনতার পর থেকেই কমবেশি চালু রয়েছে। গত দুই দশকে গৃহীত সাসেক প্রকল্পগুলো এক্ষেত্রে তেমন একটা ভূমিকা রাখতে পারেনি। উপ-আঞ্চলিক জোটের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধিতেও এর কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। সাসেকের আওতাভুক্ত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে কিছু যোগাযোগ অবকাঠামো দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যদিও বেশির ভাগই এখনো হয় চলমান, নয় পরিকল্পনাধীন। শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো দিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্যে এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের পূর্ণাঙ্গ সুফলও পাওয়া যাবে না। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ থেকে শুরু করে সার্বিক লজিস্টিকস ব্যবস্থা সমান্তরালভাবে গড়ে তুলতে না পারলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রকল্পগুলোর সুবিধা অধরাই থেকে যাবে।
সাসেকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পরিবহন, যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি গুরুত্ব পায় সবচেয়ে বেশি। সাসেক অপারেশনাল প্ল্যান ২০১৬-২৫-এর আওতায় বাংলাদেশে চলমান বেশকিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সাসেকের আওতায় নেয়া প্রকল্পের সংখ্যা মোট ১৯। এখন পর্যন্ত দেশে সাসেকের আওতায় গৃহীত প্রকল্পগুলোয় মোট বিনিয়োগের আকার দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি ডলারে।
ঢাকার প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করছে সরকারের সেতু বিভাগ। চলতি বছর এক্সপ্রেসওয়েটির কিছু অংশ (বিমানবন্দর-বনানী) চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। এখনো এর কাজ শুরু হয়নি। সম্প্রতি প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে নতুন সংশোধনী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে সাভারের বালিয়ারপুর থেকে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ।
এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। মহাসড়কটিতে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সংযোগ সড়কের কাজ চলমান। শেষের দিকে চলে এসেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গাজীপুর-বিমানবন্দরের মধ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে বাসের জন্য বিশেষায়িত লেন।
পদ্মা সেতুর কাজ প্রায় শেষ। চলতি মাসেই সেতুটি চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল ও টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান। চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কও।
একইভাবে বেনাপোল-যশোর, রংপুর-বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী-রংপুর, হাটিকুমরুল-বনপাড়া-ঝিনাইদহ, খুলনা-মোংলা, ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের মতো দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান বা পরিকল্পনাধীন রয়েছে সাসেকের মাধ্যমে।
সড়কের পাশাপাশি রেলওয়েরও অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে সাসেকের মাধ্যমে। ঢাকা-চট্টগ্রামে ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। একই করিডরে হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণও পরিকল্পনাধীন। প্রায় শেষ পথে চলে এসেছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-গুনদুম রেলপথ নির্মাণকাজ। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈশ্বরদী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ডাবল লাইন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়ার মধ্যে নতুন রেলপথ নির্মাণ, আব্দুলপুর-পার্বতীপুরের মধ্যে দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণসহ আরো একাধিক প্রকল্প পরিকল্পনাধীন ও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
বাংলাদেশে সাসেকের আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন তত্পরতা প্রথম দৃশ্যমান হয় ২০০৫ সালে। তবে গঠনের পর প্রায় দেড় দশক সাসেকের কার্যক্রম খুব একটা গতিশীল ছিল না। ২০১৫ সাল থেকেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন দেখা যেতে থাকে। ২০১৬ সালে সদস্য দেশগুলো গ্রহণ করে সাসেক অপারেশনাল প্ল্যান ২০১৬-২৫। ১০ বছর মেয়াদি এ পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে জোরালো হয়ে ওঠে উপ-আঞ্চলিক জোটটির কার্যক্রম। এক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জোর দেয়া হয় পরিবহন, বাণিজ্য জোরদারকরণ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়নের দিকে। এর পরের বছরই সাসেকভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা নয়াদিল্লিতে গ্রহণ করেন এক নতুন রূপকল্প ‘সাসেক: পাওয়ারিং এশিয়া ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’। প্রাকৃতিক সম্পদ, শিল্প সম্ভাবনা ও কানেক্টিভিটি—এ তিন বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে গ্রহণ করা হয় রূপকল্পটি। এর পর থেকেই সাসেকের অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরালো হয়ে ওঠে। এখন পর্যন্ত দেশে এর আওতায় বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ হলেও ভারত ছাড়া সাসেকভুক্ত অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বণিক বার্তাকে বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সড়কপথে কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির কাজ যেগুলো চলছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে দুটি বিষয় মাথায় রাখা হচ্ছে। একটি হলো স্থানীয় বিনিয়োগের ব্যাপ্তি বাড়ানো। আরেকটি হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ত্বরান্বিত করা। সড়ক উন্নয়ন অনেক জায়গায় হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সীমান্তে গিয়ে অনেক বাধা রয়ে গিয়েছে। এদিকে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু অধিকাংশই শেষ হয়নি। বিনিয়োগগুলো তখনই কাজে লাগবে যখন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও সমানতালে চলবে। এখন পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষেত্র বিশেষে বিনিয়োগগুলোর সুফল আমরা পেতে শুরু করেছি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পূর্ণ ফলাফল আমরা এখনো পাইনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাসেক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের গতি নিয়েও প্রশ্ন আছে অনেক। বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণেই প্রকল্পগুলো থেকে লাভবান হতে বা যথাযথ সুবিধা তুলে নিতে পারছে না বাংলাদেশ।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বণিক বার্তাকে বলেন, সাসেকে কাজ হয় দুই ধরনের। একটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে, আরেকটি ক্ষেত্র কানেক্টিভিটির অবকাঠামো উন্নয়নে। নীতি পর্যায়ে অগ্রগতি আছে, তবে অন গ্রাউন্ড ইস্যুতে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান প্রকল্প হাতে গোনা। বিদেশী অর্থায়নের প্রকল্পগুলোয় বাংলাদেশের পাইপলাইনে অনেক বিলিয়ন ডলার আছে। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করতে পারছি না আমরা। তার বড় একটা কারণ হলো আমাদের বাস্তবায়ন সক্ষমতার সমস্যা। আরেকটি হলো প্রকল্পগুলো যখন হয় তখন আঞ্চলিক অ্যাপ্রোচ নিয়ে আসা হয়, আমরা তাতে সম্মতও হই। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে উদ্যোগগুলোয় প্রাণসঞ্চার করা ও অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়া, সেটা হয় না। ফলে দেরি হতে থাকে। যত দেরি হয় ততই প্রকল্পগুলোর কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে পিছিয়ে যাই। আর শুধু সড়ক করলেই হবে না। মাঠ পর্যায়েও বাস্তবায়ন করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ।
অনেকটা একই মত পোষণ করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, সাসেকের আওতায় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতুর কথাও বলা হয়। এ ধরনের প্রকল্পগুলো অধিকাংশই চলমান, যার প্রতিফলন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাতারাতি দেখা যাবে না। প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হতেও অনেক দেরি হয়। সাসেকের প্রকল্পগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতুই সবচেয়ে আগে হচ্ছে। এছাড়া জয়দেবপুর-চন্দ্রা-এলেঙ্গার ক্ষেত্রে অগ্রগতি আছে। পরিবহন করিডরকে ইকোনমিক করিডর করতে গেলে অবশ্যই সময় লাগবে। উৎপাদন না হলে সড়কে কী পণ্য পরিবহন হবে? আর রফতানিই বা বাড়বে কীভাবে? এগুলোয় সময় লাগবে। আমি মনে করি ধীরে ধীরে বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। এখন সেতু হচ্ছে, এর পরের ধাপে আশপাশে বিনিয়োগ হবে। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো সক্রিয় হলে আমরা সুফলগুলো দেখতে পাব। যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি অন্য দিকগুলোও সমান্তরালভাবে হওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সুবিধার প্রক্ষেপণগুলো বাস্তবে রূপ দিতেই বিষয়গুলোয় সমান্তরাল বিনিয়োগের দরকার পড়ে। শিল্প পার্ক, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করা, পেশাদার দক্ষ কর্মীর ব্যবস্থা করা—এ জায়গাগুলোয় আমাদের মনোযোগী হওয়ার দরকার আছে। তাহলে সম্ভাবনাগুলো বাস্তবে দৃশ্যমান হবে। প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে, কিন্তু অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তর করতে গেলে অন্যান্য বিনিয়োগ সমান্তরালভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাসেকের আওতায় আঞ্চলিক সংযোগের জায়গা বলতে মূলত বোঝায় নেপাল, ভুটান ও ভারতকে। এর মধ্যে বাণিজ্যের আকার বড় মূলত ভারতের সঙ্গে। ভুটানের সঙ্গে খুবই কম। নেপালের সঙ্গে বাণিজ্যে সম্ভাবনা আছে, কিন্তু এখনো তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। অবকাঠামো হলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আরো বাড়বে। শুধু যোগাযোগ অবকাঠামো হলে হবে না। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ থেকে শুরু করে সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বণিক বার্তাকে বলেন, অবকাঠামোর পাশাপাশি লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আবার বাণিজ্য চুক্তিসহ অশুল্ক বাধাগুলোর বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। পণ্য আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে মিউচুয়াল রিকগনিশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক ধরনের কাজ এখনো করার আছে, যেগুলো হলে বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাবে।










