অসিম কুমার সোম। গার্ডা শিল্ড সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের ক্যাশ সলিউশন সার্ভিসের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের (ডিবিবিএল) ২৩১টি বুথ থেকে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকা উধাও হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অসিম কুমারের সার্বিক কার্যক্রম সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে খোদ তার প্রতিষ্ঠানও। তদন্তসংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানটিরও ধারণা বুথের টাকা চুরির নাটের গুরু এই অসিম কুমার সোম।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গার্ডা শিল্ডের আগে ডিবিবিএলে বুথে টাকা সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল জিফোরএস সিকিউরিটিজ। সে সময় অসিম কুমার জিফোরএস সিকিউরিটিজে কর্মরত ছিলেন। সে সময় থেকেই বুথের টাকা চুরির ঘটনা শুরু হয়। বিষয়টি ব্যাংকের নীরিক্ষায় ধরা পড়লে তারা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। নতুন করে গার্ডা শিল্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরপর অসিম কুমার যোগ দেন গার্ডা শিল্ডে। সেখানে তার সঙ্গে কর্মরত ছিলেন আরো আটজন, যারা এ চুরির ঘটনায় এরই মধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। তবে বুথের টাকা চুরির বিষয়টি আলোচনায় আসার পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত অসিম কুমার।
বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় কাফরুল থানা গত রোববার মামলা দায়ের করেছে গার্ডা শিল্ড। প্রতিষ্ঠানের হেড অব ক্যাশ সার্ভিস সৈয়দ আব্দুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় অসিম কুমারসহ আরো ১০-১৫ জনকে সন্দেহ করছে গার্ডা শিল্ড। প্রতিষ্ঠানের হেড অব ক্যাশ সার্ভিস সৈয়দ আব্দুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, বুথ থেকে টাকা চুরি যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের অবগত করার পর থেকেই আর অফিসে আসেননি অসিম কুমার সোম। তিনি চাকরি ছাড়ার একটি চিঠি ই-মেইল করেছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কোনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি। এমনকি প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড়পত্রও নেননি। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক দফা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সার্বিক বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। আমরা ধারণা করছি, এ চুরির সঙ্গে গ্রেফতার আটজনের বাইরে অসিম কুমার সোম ছাড়াও ১০-১৫ জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
অসিম কুমার সোম সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হয় গার্ডা শিল্ডের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা আব্দুর রব চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, জিফোরএস থেকে আব্দুর রহমানসহ আটজন একযোগে আমাদের প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। কিন্তু তারও এক মাস আগে একই প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ সলিউশন সার্ভিসের সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। পরে তার মাধ্যমেই ওই আটজন এখানে জয়েন করেন, যারা বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন।










