চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলার ঘটনায় সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা হত্যা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এ ছাড়া চট্টগ্রামের চালিতাতলী ও রাউজানে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে র্যাবের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র্যাবের বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
র্যাব জানিয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগকালে সরোয়ার বাবলাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ আরো একজন গুলিবিদ্ধ হন। একইদিন রাত ৯টার দিকে জেলার রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৫ জন। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর চালিতাতলীতে মাদক কারবারে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধী অটোচালক ইদ্রিসকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে খুনের ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে ২৩ জনের বিরুদ্ধে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা করেছেন সরোয়ার বাবলার বাবা আবদুল কাদের। মামলায় বিদেশে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ এবং তার বাহিনীর কিলিং স্কোয়াডের প্রধান হিসেবে পরিচিত রায়হান আলমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য আসামি হলেন— বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও হেলাল ওরফে মাছ হেলাল। এর মধ্যে আলাউদ্দিন ও হেলালকে চান্দগাঁও থানাধীন হাজিরপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে র্যাবের টিম।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন জানান, মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত আরো ১৫ থেকে ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ৬ নভেম্বর মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় রিকশাচালক মো. ইদ্রিসকে গুলি করে আহত করা সন্ত্রাসী মো. আরমান আলী রাজকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রউফাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, ৫ নভেম্বর মধ্যরাতে চট্টগ্রাম জেলার রাউজানের কোয়েপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সহসভাপতি মো. ইসমাইল, শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, যুবদলের সহসভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়।
এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মাহমুদুল হক জ্যাকি (৩৫), ইসতিয়াক চৌধুরী অভি (৩৮) ও মো. জনি (৩৮) কে চকবাজার থানার সিরাজউদ্দৌলা রোডের ইঞ্জিনিয়ার শাহাজাহানের তিনতলা ভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বাবলা হত্যার ঘটনায়ও অন্যতম সন্দেহভাজন। তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগাজিসহ ৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।















