শ্রাবণের বৃষ্টি আর সেচ দিয়ে বগুড়া অঞ্চলের চাষীরা আমন আবাদ শুরু করেছেন। জেলা কৃষি বিভাগের তথমতে, এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ শেষ হয়েছে। সদর উপজেলা, শেরপুর, নন্দীগ্রাম, গাবতলী ও শিবগঞ্জসহ ১২ উপজেলায় আমন চাষ পুরোপুরি শুরু হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি মৌসুমে ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার চাল আকারে আমনের ফলন পাওয়া যাবে প্রায় ছয় লাখ টন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়া কৃষিপ্রধান অঞ্চল। ধান, পাট, সবজি, মরিচ, ভুট্টা, আলু, সরিষার জন্য বগুড়া কৃষি ক্ষেত্রে বরাবরই অবদান রাখছে। ২০২১ সালে জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮৩ টন। ২০২০ সালে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের পর ফলন পাওয়া যায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ২৩০ টন। ২০২২ সালে চাষ হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টন। ২০২৩ সালে আমন চাষ করা হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে বিগত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে ১০ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে।
বগুড়া সদর উপজেলার মাটিডালি এলাকার আমন চাষী ইফতারুল ইসলাম জানান, এ এলাকার আমন ধান রোপণের মতো কোনো জমিই আর ফাঁকা নেই। কিছু জমি ফাঁকা থাকলেও দুই-একদিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে।
বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়ায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩১৬ টন। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ২৬ টন। যেহেতু আমন উৎপাদনে বগুড়া এগিয়ে থাকে, সে হিসাবে উৎপাদন ৬ লাখ টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










