কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলগুলোয় চীনাবাদাম চাষ বাড়ছে। গত বছর জেলায় ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হলেও এবার হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর। কৃষক বলছেন, চরের জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়। এছাড়া দাম বেশি পাওয়ায় এ ফসল চাষ করছেন তারা। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাদাম চাষে সচ্ছল হয়েছেন অনেক কৃষক।
কৃষক জানান, প্রায় এক যুগ আগে চীনাবাদাম চাষ শুরু হয় রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরির তিস্তার চরে। অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভ হওয়ায় চাষের পরিধি বাড়তে থাকে। প্রতি একর জমিতে চীনাবাদামের ফলন হয় ৩৫-৪৫ মণ পর্যন্ত। বাজারে প্রতি মণ বাদাম বিক্রি হয় ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। অথচ এক একর জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয় তার অর্ধেক। এজন্য প্রতি বছর চরের জমিতে অন্য ফসল তোলার পর বাদাম চাষ করেন কৃষক। শুধু তিস্তার চরে নয়, চীনাবাদাম চাষ হয়েছে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ ১৫টি নদ-নদীর অববাহিকার সাড়ে চার শতাধিক চরে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরির চরের কৃষক চান মিয়া জানান, এবার সব মিলিয়ে প্রায় দুই একর জমিতে বাদাম চাষ করেছেন তিনি। তবে খরার কারণে তিনদিন পরপর দিতে হচ্ছে পানি। গাছে বাদাম এসেছে। আর এক মাস পর এসব বাদাম ঘরে তুলবেন তিনি। চরের জমিতে বাদাম চাষ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি কিছু অর্থও সঞ্চয় করেছেন তিনি।
একই উপজেলার ইউনিয়নের তৈয়বখা চরের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, চরের জমিতে ছয়-সাত মাস ফসল ফলানো যায়। বাকি সময়টা বন্যার কারণে ফসল হয় না। এজন্য এসব জমিতে আলু, ডালসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি বাদাম চাষ বেশি করা হয়। কেননা অন্যান্য ফসলের চেয়ে বাদামের ফলন ভালো হয়। আর খরচও কম। বারবার নদীভাঙনের শিকার হলেও চীনাবাদাম তাদের সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বছর জেলায় ২ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে চীনাবাদাম আবাদ হয়েছিল। এ বছর আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে। লাভজনক ফসল চীনাবাদামের চাষ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে চরাঞ্চলের কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।










