যশোরের ভবদহ নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি গতকাল মঙ্গলবার ছয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক রনজিত বাওয়ালি।
লিখিত বক্তব্য বলা হয়, প্রায় ৪০ বছর ধরে ভবদহ অঞ্চলের লাখো মানুষ পানির সঙ্গে বসবাস করছে।
আবারো ২০০ গ্রামের ১০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হতে চলেছে।
এ এলাকার মানুষের ফসলের জমি, বসতভিটা সবই কেড়ে নিয়েছে পানি।
সরকার বারবার প্রকল্প নেয়, কিন্তু জলাবদ্ধ মানুষের কোনো উপকার হয় না।
এলাকার ৫২টি বিলের পানি ওঠানামা করে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী দিয়ে।
পলি পড়ে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়েছে।
ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না।
এ অবস্থায় বৃষ্টির পানিতে এলাকার বিলগুলো প্লাবিত হয়েছে।
বিল উপচিয়ে পানি ঢুকেছে বিলসংলগ্ন গ্রামগুলোতে।
এরই মধ্যে অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার ২০০ গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
দ্রুত টিআরএম বাস্তবায়ন না করলে অসংখ্য বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মাছের ঘের, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আবারো পানির নিচে চলে যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য টিআরএম করতে হবে, এটাই সবচেয়ে সফল উপায়।
কিন্তু সরকারের জলাবদ্ধতা দূর করার নতুন প্রকল্পে টিআরএম নেই।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ‘ভবদহ ও তত্সংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প’
নামে ৮০৮ কোটি টাকার যে প্রকল্প নিয়েছে, তার বড় অংশজুড়ে রয়েছে শুধু নদী-খাল খনন আর নানা অবকাঠামো নির্মাণ।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, খনন করে নদী বাঁচানো যায় না।
প্রবাহ নিশ্চিত করেই কেবল নদী বাঁচানো সম্ভব।
পাঁচ বছর ধরে কেবল নদীখনন করা হচ্ছে।
এতে নদীর অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।
আর সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচে ভবদহের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ অবাস্তব ও হাস্যকর।
ভবদহ অঞ্চলকে বিরান হওয়া থেকে রক্ষা করতে হলে টিআরএম বাস্তবায়ন করতে হবে।
এটা না করে বড় বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, নদীখননের নামে অর্থ লুটপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদ, সদস্য সচিব চৈতন্য পাল, উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান ভিটু প্রমুখ।










