ভেঙে
ফেলার পাঁচ বছর পার হলেও সাতক্ষীরা নিউ মার্কেটের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে কবে নাগাদ, তাও দায়িত্বপ্রাপ্তরা কেউ জানাতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক ব্যবসায়ীর ভাগ্য এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পুঁজি হারিয়ে
এসব ব্যবসায়ী পথে বসে গেছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কিছু কিছু ব্যবসায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারলেও অনেক ব্যবসায়ী এখনো আশায় দিন কাটাচ্ছেন নতুন ভবন পাওয়ার জন্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থ জোগাড় করতে না পারায় নতুন নিউ মার্কেট ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।
সাতক্ষীরা পৌরসভার সার্ভেয়ার মো. নুরুজ্জামান জানান, ১৯৮১ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ নিউ মার্কেটের দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করে। এতে শতাধিক দোকান ছিল। ২০১৭ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। পরে এক থেকে দেড় বছর ধরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।
নিউ মার্কেটের তনুজা কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদ বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের দিকে বহুতল নতুন ভবন নির্মাণ করে দেয়ার আশ্বাসে পৌর কর্তৃপক্ষ নিউ মার্কেট ভেঙে ফেলে। সে সময় ব্যবসায়ীদের বলা হয়, ব্যবহারের অনুপযোগী নিউ মার্কেট ভবন ভেঙে ১২ তলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। যারা এখানে ব্যবসা করছেন তাদের নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এমন আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীদের তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়ে বুলডোজার দিয়ে নিউ মার্কেট ভবনটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এর পর প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও নিউ মার্কেটের নতুন ভবন কোনো উদ্যোগ নেই সাতক্ষীরা পৌর কর্তৃপক্ষের। ফলে নিউ মার্কেটের শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।’
একই ধরনের বর্ণনা দেন নিউ মার্কেটের ওয়ার্ছি জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হামিদ, নিপুণ গার্মেন্টসের পরিচালক শওকাত হোসেন ও আল বারাকা জুয়েলার্সের পরিচালক কামরুজ্জামান। তারা বলেন, ‘আশির দশকে আমরা পৌরসভা থেকে নিউ মার্কেটের দোকান বরাদ্দ নিই। দীর্ঘদিন এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। বলা হয়েছিলো ভেঙে ফেলার পর পরই বহুতল ভবন নির্মাণ করে আমাদের সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে। কিন্তু বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে তার কিছুই হয়নি।’
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ একটি অমানবিক কাজ করেছে। নিউ মার্কেটে দীর্ঘদিন যারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তাদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় নিউ মার্কেটটি। এখন পর্যন্ত সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়নি। আর এসব ব্যবসায়ী এখন পথে পথে ঘুরছেন।’ তিনি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বহালের দাবি জানান।
নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, ‘পৌর কর্তৃপক্ষ শুধুই আশ্বাস ছাড়া এ পর্যন্ত কিছুই করতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অসংখ্যবার পৌর মেয়রের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এখন ব্যবসায়ীরা তাদের পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন।’ তিনি দ্রুত নতুন নিউ মার্কেট ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
সাতক্ষীরা পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজি ফিরোজ হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বহুতল নিউ মার্কেট ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভেঙ্গে ফেলা নিউ মার্কেট নতুন করে স্থাপন করার মতো অর্থ সাতক্ষীরা পৌরভার নেই। বহুতল ভবনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠালে সেটি বাতিল করা হয়। ফলে নতুন করে নিউ মার্কেট ভবন তৈরি করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সাতক্ষীরা পৌরসভা পরিষদে অচলাবস্থা ছিল বেশ কিছুদিন, যা নিয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বিষয়টি বিবেচনা করে চেষ্টা চালানো হচ্ছে যাতে তারা জায়গা বরাদ্দ নিয়ে নিজ খরচে স্থাপনা তৈরি করতে পারেন।’
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি সেলফোনে বলেন, দুই-তিন বছর আগে ১২তলা ভবনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও তা পাস হয়নি। পরে আবার সাত তলা ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।










