নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ ও এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বাদলের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (বেগমগঞ্জ আদালত) মাশফিকুল হক এ আদেশ দেন। 

পাবলিক প্রসিকিউটর গুলজার আহমেদ জুয়েল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বেলা সোয়া ৩টার দিকে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলার প্রধান আসামি বাদলের বিরুদ্ধে দুটি মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন এবং ইউপি সদস্য সোহাগের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চান। আদালত শুনানি শেষে বাদলের ৭ দিন ও সোহাগের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন উর রশিদ জানান, নির্যাতিতা নারী গত রোববার মধ্যরাতে থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং অপরটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। মামলা দুটির প্রত্যেকটিতে নয় জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। উভয় মামলায় একই ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে এজাহারভুক্ত চার জন এবং নির্যাতিতার ২২ ধারার জবানবন্দিতে উঠে আসা ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া দেলওয়ার বাহিনীর প্রধান দেলওয়ারকে নারায়গঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

ওসি আরো জানান, দুটি মামলা কোনোটিতেই দেলওয়ারকে আসামি করা হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন মহল থেকে তার নাম উঠে এলে আজ জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেলওয়ারকে ওই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত এখনো ওই আবেদনের শুনানি করেননি।

এদিকে আজও জেলার বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে দফায় দফায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।  

উল্লেখ, গত ২ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুরে স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর ৭-৮ জন সদস্য এক নারীকে তার ঘরে বিবস্ত্র করে শারীরিক নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের ভিডিও ৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের টনক নড়ে। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় ওই নারী মামলা দায়ের করেন।