সমস্যা জর্জরিত হয়ে পড়েছে পাবনা সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার। খামারটিতে মুরগি পালনের অধিকাংশ শেডই ব্যবহারের অনুপযোগী। এছাড়া তুলনামূলক নিচু জায়গা হওয়ায় জলাবদ্ধতা সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১৯৭৮ সালে তিন একর জায়গার ওপর পাবনা বিসিক শিল্প নগরীতে খামারটি স্থাপন করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি গত অর্থবছরে ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। যদিও এ প্রতিষ্ঠানে সরকারি রাজস্ব আদায়ের কোনো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত নেই।
জানা গেছে, জেলার বাসিন্দাদের পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও বেকার সমস্যা নিরসনে মুরগি পালনকারী খামারিদের মাধ্যমে পশুসম্পদ বৃদ্ধি ও স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসার সুযোগ দিতে এ খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে মূলত ডিম উৎপাদন, মুরগি পালন, হ্যাচারির মাধ্যমে বাচ্চা উৎপাদন, বাচ্চা পালন ও মুরগি পালনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
২০২১-২২ অর্থবছরে এ প্রতিষ্ঠানে ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার পিস। উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৯৫ হাজার পিস। বাচ্চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার। উৎপাদন করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার। বাচ্চা পালনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার, পালন করা হয়েছে ১০ হাজার ১০০টি। মুরগি পালনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার, পালন করা হয়েছে ২ হাজার ১০০টি। এ থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৫ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরীর উন্নয়ন হওয়ায় মুরগি প্রজনন খামারটি অপেক্ষাকৃত নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটি পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উঁচু হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পানি জমে থাকে। ধীরে ধীরে পানি শুকালেও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিরাজ করে। ফলে মুরগি ও বাচ্চা পালন বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে অনেক রোগবালাইয়ের শিকার হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানে পালনকৃত মুরগি। এতে ব্যয় বেড়েছে চিকিৎসা ক্ষেত্রেও। প্রতিষ্ঠানের অকেজো তিনটি শেডসহ অন্য শেডগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে
প্রতিষ্ঠানটিতে জরুরিভাবে মাটি ভরাট এবং মুরগি পালনের শেড সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পাবনা সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের ব্যবস্থাপক মো. আছাদুর রহমান জানান, খামারিদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জেলাবাসীর পুষ্টিচাহিদা পূরণে ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সে সময় পাবনা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ভেতর তিন একর জায়গা দেয়া হয়েছে। সেখানে মুরগি পালন, ডিম উৎপাদন, বাচ্চা পালনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ১০টি শেড নির্মাণ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে তিনটি শেড ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে তিনটি হ্যাচারি মেশিনের সাহায্যে একটি শেডে বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। মুরগির খাবারের দাম চড়া হওয়ায় ব্যয়ও বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিচু জায়গায় পড়ে যাওয়ায় পানি জমে। বছরের অর্ধেকের বেশি সময় পানি জমে স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকে। ফলে মুরগি ও বাচ্চার রোগবালাই বাড়ছে। চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এ প্রতিষ্ঠানে মাটি ভরাটের মাধ্যমে অসুবিধাগুলো নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।










