ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারা দেশে অস্বচ্ছলদের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদেও দেয়া হয় বরাদ্দের চাল। তালিকাভুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। তবে তালিকায় নাম থাকলেও অনেকে চাল পাননি বলে জানিয়েছেন।
সুবিধাবঞ্চিতরা বলছেন, ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এভাবে ১৮ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন খট্টামাধবপাড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপন। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগও করেছেন তারা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান। তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চাল বিতরণের এক মাস পার হওয়ার পর আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি যেদিন চাল বিতরণ করেছি, সেদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি ছিলেন। ইউপি সদস্য, সচিব ও গ্রামপুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকার পরও চাল পায়নি ও মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকার বিষয়টি সঠিক নয়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৬ মার্চ ইউনিয়নের ৪ হাজার ১৬৯ জনের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। তবে তালিকায় নাম থাকার পরও অনেকে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চাল না পেয়ে ফিরে এসেছেন। আবার অনেকের নাম থাকলেও তারা জানেন না, তাদের নামের চাল উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। এছাড়া তালিকায় একজনের নাম একাধিকবার, এক ওয়ার্ডের নাম অন্য ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত ও মৃত ব্যক্তির নাম রয়েছে। এ ঘটনায় প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপন, মেম্বার শাহানুর রহমান, আবুল কাশেম ও জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৯ এপ্রিল লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
ভিজিএফের তালিকায় মেরিনা খাতুনের নাম রয়েছে ২৩৩৪ ক্রমিক নম্বরে। তবে তিনি চাল পাননি। মেরিনা খাতুন বলেন, ‘ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা ছিল। তালিকায় আমার নাম রয়েছে, তার পরও আমাকে চাল দেয়নি। আমরা চেয়ারম্যান-মেম্বারের ওপরই নির্ভরশীল। তারাই যদি আমাদের না দেখেন, তাহলে আমরা কোথায় যাব।’
ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন শামীম রেজা। তালিকায় তার নাম রয়েছে ২৬৫১ ক্রমিক নম্বরে। যেদিন চাল বিতরণ হয়, সেদিন তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন। তবে তাকে বলা হয়েছে তালিকায় তার নাম নেই।
শুধু শামীম রেজা নন, চাল পাননি জনি ইসলামও। তিনি বলেন, ‘তালিকায় আমার নাম রয়েছে। প্রথমে মেম্বারের কাছে জানতে চাইলাম, তালিকায় নাম রয়েছে কিনা। তিনি জানান, নাম নেই। পরে একটি তালিকা পেয়েছি। সেখানে আমার নাম রয়েছে। আমার নামের চাল কোথায় গেল, কে উত্তোলন করল?’
এ প্রসঙ্গে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, ‘প্যানেল চেয়ারম্যান ছদরুল শামীম স্বপনের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তালিকায় নাম থাকার পরও কেউ কেউ চাল পাননি। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য পিআইওকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










